উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে সুনামগঞ্জের ছাতকে হাওর পাড়ের মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে এক অজানা আতংক। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি বাঁধের কানায়-কানায় পানি চলে আসায় হুমকির মুখে রয়েছে কয়েকটি হাওরের ফসল। এখানে শঙ্কায় কাটছে কৃষক পরিবারের রাতদিন। অনেক হাওরে বাধেঁর উপর রাতভর কৃষকরা পাহারা দেয়ার খবরও পাওয়া গেছে। কৃষকরা হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ রক্ষা ও মেরামতে দিন রাত কাজ করছেন।

তাদের সাথে যোগ দিয়েছেন ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রহমান। মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত আড়াইটা পর্যন্ত উপজেলার জাউয়াবাজার ও সিংচাপইড় ইউনিয়নের অন্তর্গত চাউলির হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধগুলোকে পানির তোপ থেকে রক্ষা করতে খালের উজানে জরুরি ভিত্তিতে একটি নতুন বাঁধ তৈরি করতে কাজ করেন তিনি। এছাড়া গত তিনদিন ধরে উপজেলার সবকয়টি হাওর রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে ইউএনওকে।


এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবং বিকল্প বাঁধ তৈরি করায় নুতন আশায় আবারো বুক বেধেঁছেন কৃষকরা।

জানা যায়, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ছোট-বড় মোট ৬৮টি বিল- হাওর রয়েছে। গত কয়েক দিনে পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারনে সুরমা, চেলা ও পিয়ানই নদীর পানি আশংকাজনক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় সবগুলো হাওর রয়েছে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তৌফিক হোসেন খান শতকরা ৮০ ভাগ পাকা ফসল কাটার পরামর্শ দিয়ে জানান, চলতি বোরো মৌসুমে এখানে ১৪ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কর্তন করা হয়েছে প্রায় ৫ হেক্টর জমির ফসল। আকস্মিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায প্রায় ৫০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।

ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রহমান জানান, প্রতিটি হাওর সম্পর্কে সার্বক্ষনিক খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। সরেজমিনে সকল বাঁধ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়া হচ্ছে। বর্তমানে পানি ক্রমহ্রাসমান অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত পানি কমে গেলে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা হবে বলে তিনি আশাবাদী।

সিলেটভিউ২৪ডিটকম/পিডি