মরু অঞ্চলের জনপ্রিয় ফল ত্বীন চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন বানিয়াচংয়ের অন্যতম কৃষি উদ্যোক্তা লালন মিয়া। স্বল্প সময়ে পুষ্টি ও ওষুধিগুণ সম্পন্ন এ ফলের চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন তিনি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখন লালন মিয়ার বাগান থেকে চারা সংগ্রহ করছেন কৃষি উদ্যোক্তারা।

সরেজমিন বানিয়াচংয়ের বাগ মহল্লায় লালন মিয়ার ত্বীন ফলের বাগান ঘুরে দেখা যায়, নিজের বসতবাড়ির ছাদে বড় বড় টবে ত্বীন ফলের গাছ রয়েছে। গাছে গাছে সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে কাঁচাপাকা ত্বীন ফল। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের দুই শ’রও বেশি জাতের ত্বীন ফলের চারা রয়েছে তার বাগানে।


জানা যায়, বানিয়চংয়ে প্রথমবারের মত ডুমুর সদৃশ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এ ফলের চাষ হয়েছে লালন মিয়ার হাত ধরেই। প্রায় বছর দেড়েক আগে বাড়ির ছাদে ত্বীনের আবাদ শুরু করেন তিনি। বিষমুক্ত উপায়ে ত্বীন উৎপাদনে বাগানে ব্যবহার করা হচ্ছে জৈব বালাইনাশক। এখন তিনি ত্বীন ফলের কলম (কাটিং) বিক্রি করছেন পুরোদমে।

কৃষি উদ্যোক্তা লালন মিয়া জানান, সৌদি আরবসহ মরু অঞ্চলে পবিত্র ফল হিসেবে ত্বীনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ডুমুর সদৃশ এই ত্বীন ফল যেমন সুস্বাদু তেমনি পুষ্টি সমৃদ্ধ। মুসলিম অধ্যুষিত মরু অঞ্চলে এই ফল পবিত্র হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়। এ ফল ওষুধ হিসেবেও ব্যবহার করেন মরু অঞ্চলের মানুষ।

তিনি আরও বলেন, ‍“মরু অঞ্চলের এই পবিত্র ফলের অনেক গল্প শুনেছি। এরপর এক ব্যক্তির কাছ থেকে ত্বীন ফলের ছাড়া সংগ্রহ করি। কিন্তু আমাকে আসল ত্বীন ফলের ছাড়া দেয়া হয়নি। প্রতারিত হয়েছি কয়েকবার। আর্থিকভাবেও অনেকবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এরপর বাড়ির ছাদে শুরু করি ত্বীন ফলের চাষ।”

তাছাড়া ইতালী, তুরস্ক, ফ্রান্স, সৌদি আরব, দুবাই, জর্ডানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থেকে ত্বীন ফলের কলম (কাটিং) সংগ্রহ করেছেন তিনি। প্রথমদিকে ভেবেছিলেন হয়তো এখানে এই ফলের চাষ ভালো হবে না। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম আর নিবিড় পরিচর্যার ফলে অল্প দিনের মধ্যেই ত্বীন ফলের গাছ পুষ্ট হয়ে বড় হতে থাকে। ছয় মাসের মধ্যে সেই গাছে ত্বীন ফল আসে। দেখতে অনেকটা আমাদের দেশের ডুমুর ফল মনে হলেও গোলাপী এবং নেভি ব্লু রঙ ধারণ করা এক একটি ত্বীন ফল খেতে বেশ সুস্বাদু।

ত্বীন ফলের চাষের কথা জানাজানি হওয়ায় দূর দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন ফলের গাছ দেখতে। অনেক কৃষি উদ্যোক্তা ত্বীন ফল চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অনেকে তার বাগান থেকে ত্বীন ফলের কলম (কাটিং) সংগ্রহ করছেন। মূলত মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি ত্বীন ফলের চাষ ও উৎপাদন বানিয়াচং-হবিগঞ্জসহ সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়াই লালন মিয়ার লক্ষ্য ও উদ্যেশ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।

বানিয়াচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এনামুল হক জানান, কৃষক লালন মিয়া একজন সফল উদ্যোক্তা। উনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ত্বীন গাছের কাটিং (কলম) সংগ্রহ করে নিজে আবার কাটিং করে সারাদেশে বিক্রি করছেন। আমাদের একটি কৃষক প্রশিক্ষণে লালন মিয়াকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। এখানে অন্যান্য কৃষককে ত্বীন চাষের ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছেন এবং কিভাবে ত্বীন ফলের চাষ করছেন সবাইকে জানিয়েছেন কৃষক লালন মিয়া।

তাছাড়া যেকোনো কৃষক যদি ত্বীন চাষে আগ্রহী হন তাহলে কৃষক লালন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়ার পাশাপাশি বানিয়াচং কৃষি অফিসের সহযোগিতা থাকবে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এনামুল হক।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/জেইউ/এসডি-১৭