(ডানে) ছাত্রলীগ নেতা আসিফ চৌধুরী
প্রতারণা করে আদাবর থানা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের সাড়ে ১৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আসিফ চৌধুরী নাঈমের বিরুদ্ধে।
আসিফ চৌধুরী নাঈম মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার শহরতলীর পূর্ব বিরাইমপুর আজহার চৌধুরীর ছেলে।
একই ভাবে ঢাকা আদাবর থানার শেখেরটেক এলাকার কাজের বুয়াসহ বিভিন্ন সমিতি ও ব্যক্তিদের কাছ থেকে আরও ২০ লক্ষ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে।
শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) বিকালে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে ঢাকা রাজধানীর আদাবর থানা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ব্যবসায়ী আব্দুল খালিক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তিনি এসব অভিযোগ তোলেন।
আব্দুল খালিক লিখিত বক্তব্য বলেন, তিন বছর আগে শ্রীমঙ্গল উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি পরিচয়ে এবং ঢাকায় একই এলাকায় বসবাস করার সুবাধে নাঈমের সাথে পরিচয় হয়। গত ২০২১সালে চা পাতার ব্যবসার জন্য সে ঢাকাস্থ আমার মালিকানাধিন একটি দোকান ঘর কোঠা ভাড়া নেয়। একই বছর নাঈম চা পাতার ব্যবসা সম্প্রসারণ করার জন্য লোন নেয়ার প্রয়োজনে পূবালী ব্যাংক রিং রোড শাখায় চৌধুরী টি হাউজ নামে একটি চলতি হিসাব খুলে। এরপর লোনের জন্য আর্থিক লেনদেনের প্রয়োজনে নাঈম আমার কাছে অল্পদিনের কথা বলে কয়েক দফায় ১৫ লাখ ৫০ টাকা নেয়। জামানত হিসেবে তিনি ও তার স্ত্রীর নামের সমপরিমান অর্থের ৪টি চেক প্রদান করে। গত বছরের অক্টোবর মাসে নাঈমের নামে ৫০ লক্ষ টাকা লোন বন্দোবস্ত হয়েছে। এসময় আমি তার খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সে বাসা ছেড়ে চলে গেছে। এক সপ্তাহ পরে নাঈম ফোন করে জানায়, স্ত্রীকে নিয়ে সে আমেরিকায় চলে এসেছি।
আব্দুল খালিক অভিযোগ বলেন, সোসাইটিতে থাকা অবস্থায় নাঈম বিভিন্ন এনজিও ও সমবায় সমিতি থেকে ১২ লাখ টাকা লোন নেয়। এসব লোন গ্রহনকালে আমাকে জামিনদার করে। চা পাতার ব্যবসা করে মুনাফার লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন লোকজনদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারনা করে আত্মসাৎ করে। মাকসুদা নামে এক কাজের বুয়ার কাছ থেকে নাঈম চেক জামানত রেখে ৬ লক্ষ ও হাসান নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা নেয়।
তিনি বলেন, আমি জামিনদার হওয়ায় তার কিস্তির টাকা পরিশোধে আমাকে চাপ দেয়া হচ্ছে। অথচ নিজের সাড়ে ১৫ লাখ টাকা হারিয়ে আমি পথে বসেছি। এনিয়ে আমি নাঈমের শ্রীমঙ্গলে বসবাসরত পিতা ও ভাই রিয়ামকে জানালে তারা এই টাকার দায় দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে আরেক ভুক্তভোগী ঢাকার বাসিন্দা মো. হাসান খাঁন উপস্থিত ছিলেন।
এব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি আফিস চৌধুরী নাঈমের পিতা আজহার চৌধুরী বলেন, আমার ছেলের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। কি কারণে তারা টাকা দিয়েছে, আমি নিজেই বুঝতে পারছি না। এর দায় আমি নিব না।
উল্লেখ্য যে, চলতি মাসের ৭ এপ্রিল বুধবার ঢাকার অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি পুলিশের একটি টিম এক নারীর এক কোটি টাকা আত্মসাৎ এর মামলায় আসিফ চৌধুরী নাঈমের ভাই রিয়াম চৌধুরীকে শ্রীমঙ্গল ভানুগাছ সড়কে এশিয়ান টি হাউস নামে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। আসিফ চৌধুরী বিদেশে থাকায় সিআইডি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/এসআই/এসডি-২০




