সিলেটে করোনায় প্রথম মৃত্যুর দুই বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল শুক্রবার (১৫ এপ্রিল)। আজ থেকে দুই বছর আগের এই দিনে (২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল) সিলেটের মানুষজনকে ঘুম থেকে জেগেই শুনতে হয়েছিলো একটি দুঃসংবাদ।

১৫ এপ্রিল ভোরে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিন। তিনি ছিলেন সিলেটের প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী।


করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধিন ছিলেন তিনি। সিলেট বিভাগের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী প্রথম ব্যক্তিও তিনি। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া দেশের প্রথম চিকিৎসকও মঈন উদ্দিন।

২০২০ সালের ৫ এপ্রিল সিলেটে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাস আক্রান্ত কোনো রোগীর সন্ধান মেলে। তিনি ডা. মঈন উদ্দীন। প্রথমে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নেন ডা. মঈন। এরপর অবস্থার অবনতি হলে ৭ এপ্রিল রাতে তাকে সিলেটের করোনা হাসপতাল খ্যাত শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ৮ এপ্রিল উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা নিয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৫ এপ্রিল ভোরে সেখানেই তিনি মারা যান।

ডা. মঈন উদ্দিন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। নগরীর সুবহানিঘাটের ইবনে সিনা হাসপাতালে তিনি প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতেন।

ডা. মঈন সিলেটের সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সিদ্দিক আলীর ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন। তার স্ত্রীও চিকিৎসক।

ডা. মঈনের পর গত দুই বছরে সিলেট বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১২৩৪ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ৯১৬ জন, সুনামগঞ্জে ৭৫ জন, হবিগঞ্জে ৪৯ জন এবং মৌলভীবাজারের ৭২ জন। এছাড়াও সিলেট ওসমানী হাসপতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা গেছেন ১২২ জন।

এদিকে, ডা. মঈন উদ্দিনের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ লাখ টাকা দিয়েছে সরকার। সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ টাকা প্রদান করা হয়। মঈন উদ্দিনের স্ত্রী ডা. চৌধুরী রিফাত জাহানের কাছে ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর করেন অর্থ বিভাগের ড্রইং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার।


সিলেটভিউ২৪ডিটকম / ডালিম