প্রস্তুতি সভায় নেতারা বলেছেন, আগামী রবিবার (১৭ এপ্রিল) বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট জেলার সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি জননেতা এম ইলিয়াস আলী এবং গাড়ী চালক আনসার আলী গুমের ১০ বছর হয়ে গেছে।

তবে সিলেটের গুমকৃত ৪ নেতাকর্মীর কারো সন্ধান দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। অবিলম্বে জননেতা এম ইলিয়াস আলী সহ গুমকৃত সকল নেতাকর্মীদের অক্ষত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় জনতার সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে সকল গুম রহস্যের উদঘাটন করা হবে। গুমের সাথে জড়িত সবাইকে জনতার আদালতে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।


বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর একটি অভিজাত রেষ্টুরেন্টের হলরুমে সিলেট জেলা বিএনপি আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় বক্তারা উপরোক্ত কথা বলেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় জননেতা এম ইলিয়াস আলী সহ গুমকৃতদের সন্ধান কামনায় জেলা বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচীকে সফল করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানানো হয়।

১৭ এপ্রিল রোববার জেলা বিএনপির উদ্যোগে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান ও বাদ জোহর নগরীর দরগাহে হযরত শাহজালাল (র.) মাজার মসজিদ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিতব্য দোয়া মাহফিলে উপস্থিত থাকার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের আহবান জানানো হয়। একই সাথে একই দিনে জেলার আওতাধীন সকল উপজেলা ও পৌর শাখার উদ্যোগে স্ব স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে ইলিয়াস আলী সহ গুমকৃতদের সন্ধান চেয়ে স্মারকলিপি প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া জননেতা এম ইলিয়াস আলীর সন্ধান কামনায় ১৮ এপ্রিল সোমবার নগরীর দক্ষিণ সুরমার কুশিয়ারা কনভেনশন হলে জেলা বিএনপি আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিল সফল করার জন্য জেলা বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানানো হয়।

প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল গাফফার, জেলা বিএনপি নেতা এডভোকেট আশিক উদ্দিন, এডভোকেট এটিএম ফয়েজ, অধ্যাপিকা সামিয়া বেগম চৌধুরী, ফখরুল ইসলাম ফারুক, সিলেট মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকী, যুগ্ম আহবায়ক সৈয়দ মঈন উদ্দিন সুহেল, জেলা বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন লস্কর, ইশতিয়াক সিদ্দিকী, মামুনুর রশিদ মামুন, এডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী সালেহা কবির শেপি, সাধারণ সম্পাদিকা ফাহিমা কুমকুম, জেলা বিএনপি নেতা হাজী মোঃ শাহাবুদ্দিন, আবুল কাশেম, কুহিনূর আহমদ, আজিজুর রহমান, তাজরুল ইসলাম তাজুল, এডভোকেট মুজিবুর রহমান, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক এডভোকেট মুমিনুল ইসলাম মুমিন, যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সাঈদ আহমদ, জেলা স্বেচ্চাসেবক দলের সদস্য সচিব দেওয়ান জাকির হোসেন খান, যুবদল নেতা এডভোকেট আবু তাহের, কামাল হাসান জুয়েল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন নাদিম, মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফজ্জলে রাব্বি আহসান, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাসরুল রাসেল ও ছাত্রদল নেতা মাহবুব আলম প্রমূখ।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জননেতা এম ইলিয়াস আলী সহ নিখোঁজ সকল নেতাকর্মীদের গুমের সাথে সরকার জড়িত। না হয় সরকার চাইলে এতদিনে গুম রহস্যের উদঘাটন হতো। ঢাকার মতো ব্যস্ততম এলাকা থেকে প্রকাশ্যে একজন শীর্ষ নেতা সাবেক এমপি নিখোঁজ হয়ে গেল সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী আজ পর্যন্ত তার সন্ধান বের করতে পারেনি। এটা কোনভাবেই বিশ^াসযোগ্য নয়। কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায় ঘটাতে পারলে গুমকৃত সকলের সন্ধান পাওয়া যাবে।

মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সরকারের গুম অপরাজনীতির শিকার বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনার, জুনেদ আহমদ ও গাড়ী চালক আনসার আলী। এই সরকারের কাছে বিচার কিংবা প্রতিকার চেয়ে কোন লাভ নেই। জনতার সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারলে সকল গুম, খুনের হিসাব নেয়া হবে। এর সাথে জড়িত কেউ আইনের হাত থেকে বাচঁতে পারবেনা।

সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, জননেতা এম ইলিয়াস আলী আমাদের সিলেটের সন্তান। ছাত্রদলের সোনালী ফসল। আদর্শিক মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়েই তাঁকে সরকারের গুম নামক কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। একই সাথে তাঁর গাড়ী চালক আনসার আলীকেও গুম করে রাখা হয়েছে। অবিলম্বে জননেতা এম ইলিয়াস আলী সহ নিখোঁজ সকল নেতাকর্মীদের অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে।

জননেতা এম ইলিয়াস আলী সহ গুমকৃতদের সন্ধান কামনায় সিলেট জেলা বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচী সফল করার জন্য জেলা বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/এসডি-০৮