ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের কারণে প্রায় তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে নিউমার্কেট এলাকার প্রায় ১০ হাজার দোকান। তবে বুধবার থেকে দোকান খোলার প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের।
বুধবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহিন জানান, আমরা আজ থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে চাই।
তার এ কথার পরপরই ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান খোলার অপেক্ষায় রয়েছেন। অনেকেই আবার দোকান খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এ দিন বিকেল ৪টা পর্যন্ত কোনো দোকান খোলা না হলেও প্রাথমিক প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে বেশ কিছু দোকানিকে।
এ সময় শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার কারণে যেসব দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো খুলে মেরামত করতে দেখা গেছে। মালামাল সাজানো ও চেয়ার-টেবিল পরিস্কার করতে দেখা দেখে ফাস্টফুডের দোকানগুলোতে।
নিউমার্কেটের বাইরে কিছু অস্থায়ী ভাসমান দোকান দেখা গেছে যারা ইফতার সামগ্রী নিয়ে বসেছেন। তবে নিউমার্কেট, চন্দ্রিমা, নিউ সুপারমার্কেট, চাঁদনি চক, বদরুদ্দোজা, নুরজাহান মার্কেট বন্ধ থাকলেও নীলক্ষেত এলাকার বাকুসাহ মার্কেটের বইয়ের দোকান খোলা রয়েছে। খোলা আছে সিটি কর্পোরেশন ও বাকুশাহ মার্কেটের খাবার হোটেল।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে ডা. শাহিন বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন দিনে নিউ মার্কেট এলাকার ১০ হাজার ব্যবসায়ীর প্রায় ২০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ফুটপাতসহ অন্যান্য ১০ হাজারের বেশি দোকানের এ ক্ষতি আরও বাড়বে যদি আমরা দোকান খুলতে না পারি।
তিনি বলেন, আমরা দোকান খুলতে চাই। আমরা উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় পুরোপুরি প্রস্তুত। এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সামাজিক দায়িত্ব আমাদের, ব্যবসায়ীদের। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে আনেন ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। এ সময় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের রাস্তা থেকে ক্যাম্পাসের দিকে সরিয়ে এনে কলেজের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এর আধা ঘন্টা পরই আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয়পক্ষ।
সোমবার (১৮ এপ্রিল) দিনগত রাত ১২টার দিকে নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। মধ্যরাতে দুপক্ষকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
এরপর মঙ্গলবার সকালে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের অবরোধের পর দ্বিতীয় দফায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে নীলক্ষেত মোড়-সায়েন্সল্যাব এলাকায় থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১৯
সূত্র : জাগোনিউজ




