:: মুহিত চৌধুরী ::


বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের নাক গলানোর বিষয়টি নতুন নয়। তবে  বর্তমান সময়ে এই নিয়ে সাংবাদিকদের ভূমিকা  নানা বির্তকের জন্ম দিয়েছে।  অতি উৎসাহী কিছু সাংবাদিক রাজনীতিবিদদের মতো বিদেশী কোন কূটনীতিককে পেলেই দেশের রাজনীতি, মানবাধিকার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ দেশের অভ্যন্তরীন নানা বিষয়ে প্রশ্ন করেন। আর তখনই কূটনীতিকরা সুযোগ পেয়ে যান বাংলাদেশকে নসিয়ত করার। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নির্লজ্জ নাক গলাবার।



আর এতে করে সরকার এবং সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়কে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়।

সাংবাদিকতার অন্যতম বৈশিষ্ট হলো সত্য প্রকাশ করা, নিরপেক্ষ থাকা। তবে দেশের স্বার্থ, স্বাধীনতা. মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়গুলি যখন আসবে তখন একজন সাংবাদিককে এই বিষয়গুলির পক্ষে থাকতে হবে।
 
সম্প্রতি সিলেট সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপিকে স্থানীয় একজন সাংবাদিক বিদেশী রাষ্ট্রদূত এবং লবিস্ট প্রসঙ্গে একটি স্পর্শকাতর প্রশ্ন করেন। এতে মন্ত্রী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে লবিস্টের ভূমিকায় আপনারা কাজ করছেন। আপনারা কেন বিদেশী রাষ্ট্রদূতের কাছে বাংলাদেশের স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেন?


পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতরা রয়েছেন। তাদের কাছে খোজ নিয়ে দেখুন সে দেশের সাংবাদিকরা বাংলাদেশের এইসব দূতের কাছে তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ কোন বিষয় নিয়ে কোন দিন কোন প্রশ্ন করেছে কি? কখনও করে নাই। তাহলে আপনারা এতো উৎসাহী কেন? এটা কোন ধরণের সাংবাদিকতা?

মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রশ্নের জবাব সে দিন বেসরকারী টিভি চ্যানেলের সিলেটের ঐ প্রতিনিধি দিতে পারেননি। তবে এই কর্মটিকে ‘ইয়োলো জার্নালিজম’ হিসেবে অনেকে আখ্যায়িত করেছেন।

খুব সংক্ষেপে ইয়োলো জার্নালিজম হলো, অতিরঞ্জিত, উদ্দেশ্যমূলক, নাটকিয়তা, মিথ্যা, প্রোপাগান্ডা, নিকৃষ্ট কোন উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষে জিজ্ঞাসা করাকে ইয়োলো জার্নালিজম বলে।

ইয়োলো জার্নালিজম বা হলুদ সাংবাদিকতার জন্ম দিয়েছিলেন ১৮০০ সালে মার্কিন দুই সাংবাদিক। নিউইয়র্ক জার্নালের প্রতিষ্ঠাতা রুডলফ হাস্ট ও নিউইয়র্ক ওয়াল্ড-এর প্রতিষ্ঠাতা জোসেফ পুলিৎজার। হাস্ট ও পুলিৎজার প্রথমে একে অন্যের সাংবাদিকদের বেশি বেতন দিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসার প্রতিযোগিতা শুরু করেন। এর পর তারা সমকালীন রুচির সীমা ছাড়িয়ে চাঞ্চল্যকর সংবাদ প্রচারের প্রতিযোগিতা শুরু করেন।

বিদেশী কূটনীতিকদের কাছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে নিয়ে  উদ্দেশ্যমূলক প্রশ্ন করা  এবং এর জবাবকে মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার করা কোন অবস্থায় সুস্থ সাংবাদিকতার মধ্যে পড়ে না।

পরিশেষে বলতে চাই, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূলভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন। বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়’-এই কালোত্তীর্ণ মূলমন্ত্রকে হৃদয়ে ধারণ করে পথ চলায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন সফল পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি তৈরী করে বাংলাদেশের একটা শক্ত অবস্থান তৈরী করেছেন।
সুতরাং মতলবী মিডিয়ার কিছু সংখ্যক সাংবাদিকের এই হীন প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ পথ হারাবে না।

মুহিত চৌধুরী : সম্পাদক দৈনিকসিলেটডটকম, সভাপতি, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব