ছবি: আহমেদ রুবেল

একটা সময় সিলেটে মাটির জিনসপত্রের বেশ প্রচলন বা জনপ্রিয়তা ছিল। তবে আধুনিক শিল্পের ছোঁয়ায় সিলেটে মৃৎ শিল্প বিলুপ্তির পথে। বাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প ধীরে ধীরে স্মৃতির খাতায় নাম লেখতে শুরু করেছে। 

বর্তমান বাজারে প্লাস্টিক, স্টীল, মেলামাইন, এ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদির জিনিস বাজারে ছেয়ে গেছে। প্রতিযোগিতামূলক এই বাজারে মাটির জিনিস পত্র কম টেকসই, সামাজিকতা, সব মিলিয়ে গ্রাহকরা মৃৎ শিল্পে ব্যবহারে অনুৎসাহিত হচ্ছে। আর পৃষ্ঠপোষকতার অভাব তো আছেই। সব মিলিয়ে আজ সংকটের মুখে এ মৃৎ শিল্প। 


 
মাটি দিয়ে গঠন-কাঠামো অনুযায়ী শৈল্পিক কারুকার্যময় ও বৈচিত্র্যময় বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র তৈরী করে যারা সেই সম্প্রদায়কে আমরা কুমার বলি। আর তাদের সেই সৃষ্টি কর্মকে শিল্পের ভাষায় মৃৎ শিল্প বলে। এক সময় দৈনন্দিন জীবনে মাটির তৈরী বিভিন্ন তৈজসপত্রের ব্যাপক চাহিদা ছিল। এখনও কম বেশি শহরাঞ্চলে মাটির তৈরী কারুকার্যময় তৈজসপত্রের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে প্লাস্টিক দ্রব্য সামগ্রীর ব্যবহার বৃদ্ধি কারনে এই মাটির জিনিস পত্রের প্রতি উতসাহ হারাচ্ছেন আধুনিক সমাজের মানুষেরা। 

বিক্রেতারা বলেন, মাটির জিনিসপত্র ব্যবহার স্বাস্থসম্মত এবং প্রচীন কাল থেকে এর ব্যবহার চলে আসছে। কিন্তু আর বিভিন্ন কারনে এই শিল্প থেকে সরে আসেছেন। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতাসহ সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় এই শিল্প আর শিল্পের সাথে জরিতরা আজ বিলুপ্ত হতে চলেছে। 

তবে এখনো অনেকেই আছে যারা মাটির জিনিসপত্র কিনছেন পুরানো ঐতিহ্যকে বাচিয়ে রাখতে। 

 
ক্রেতারা বলেন, বাংলার ঐতিহ্য দিন দিন হাড়িয়ে যাচ্ছে অধুনিকতার ছোয়ায়। এই শিল্পকে বর্তমান প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

মৃৎ শিল্পী রাজকুমার বলেন, পূর্ব পুরুষের দেখানো ব্যবসা আজও আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। তাবে বর্তমান সময়ে ব্যবসায় টিকে থাকাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। সবকিছুর সাথে এই মাটির জিনেসের দামও বাড়ছে। তাই বেশি দাম দিয়ে পন্য কিনতে হচ্ছে। লাভও হচ্ছে সীমিত। সব মিলিয়ে শিল্পটি এখন বিলু্প্িতর দিকে।

মৃৎ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে এর বাজার সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা খুবই জরুরি। সরকারের কাছে থেকে স্বল্প শর্তে ঋণ সহায়তা পেলে হয়ত এ পেশা চালিয়ে যেতে পারবেন বলে তারা জানান। তা না হলে এই শিল্প বিলিন হয়ে যাবে।

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/এনএপি/এসডি-২৬