সদ্য মরহুম আবুল মাল আব্দুল মুহিতের ছোট ভাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, আমার বড় ভাই সারাজীবন মানুষের সেবা করে গেছেন। প্রায় ৬৩ বছর পাবলিক সার্ভেন্ট ছিলেন। যতদিন তিনি সার্ভিসে ছিলেন ততদিন যদি আপনারা কেউ কোনো কারণে অসন্তুষ্ট হন তবে আল্লাহর ওয়াস্তে তাঁকে ক্ষমা করে দেবেন। তার কোনো দেনা থাকলে আমি পরিশোধ করব। দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাকে মাফ করে বেহেশত নসিব করেন।
সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিতের জানাযার নামাজের আগে সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে বক্তব্য প্রদানকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, আজকের এই দিনে আমার বড় ভাই সম্পর্কে বেশি কিছু বলার দরকার নাই। তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক। আমি আমার ভাই হারিয়েছি, আর জাতি হারিয়েছে সম্পদ। আমরা যেন তাঁর মতো সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের জন্য কাজ করে যেতে পারি সবাই এই দোয়া করবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে আবুল মাল আব্দুল মুহিতকে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আর আমাদের একই ভিশন, এক স্বপ্ন- একটি উন্নত ও অসাম্প্রদায়ীক এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার। সবার জন্য অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থান ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
সিলেটের কৃতিসন্তান, সাবেক অর্থমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি আবুল মাল আব্দুল মুহিতের জানাযা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার বেলা ২টা ১৮টা মিনিটে সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন আল্লামা মুহিবুল হক গাছবাড়ি। পরে বেলা পৌনে ৩টায় নগরীর রায়নগরস্থ পারিবারিক গোরস্থানে বাবা-মার কবরের পরশে দাফন করা হয়েছে মুহিতকে।
এদিকে জানাযার আগে আরও বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, পরিবেশ- বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দীন, সাবেক হুইপ আব্দুস শহীদ এমপি, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-২ আসনের সাংসদ মোকাব্বির খাঁন, সিলেট-৩ আসনের সাংসদ হাবিবুর রহমান হাবিব, সিলেট-৫ আসনের সাংসদ হাফিজ মজুমদার, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ মুহিবুর রহমান মানিক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিছবাহ উদ্দীন সিরাজ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযুদ্ধো মাসুক উদ্দীন আহমেদ, সাধরণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, সিলেট সদর উপজেলা পরিষেদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমেদ প্রমুখ।
বক্তারা মুহিতের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘তিনি ছিলেন আমার বড় ভাই, আমার নেতা। আমার কাজের প্রধান তদারককারী ছিলেন। আমি তার নেতৃত্বে কাজ করেছি। তিনি আদর্শ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি সৎ ছিলেন, নির্লোভ করেছেন। তিনি আঞ্চলিক ছিলেন না। সংস্কৃতি, সাহিত্য, ক্রীড়া সবক্ষেত্রেই তার বিচরণ ছিল। তিনি আমাদের প্রজন্মের আদর্শ।’
বন ও পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘মুহিত ভাইয়ের মৃত্যুতে আমাদের অভিভাবক হারালাম। দেশের মানুষ একজন অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ হারাল।’
মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও সাবেক চিফ হুইপ আব্দুস শহিদ বলেন, ‘তিনি আমাদের গর্ব, আমাদের আদর্শ। বাংলাদেশ তার এক রত্নকে হারাল।’
সিলেট-৬ আসনের হাফিজ আহমদ মজুমদার বলেন, ‘আমাদের প্রিয় মুহিত ভাই। তিনি আমার দুই বছরের সিনিয়ার। আমরা একসঙ্গে এমসি কলেজে পড়তাম। তিনি একটি সফল জীবন যাপন করে গেছেন। জীবন নিয়ে তিনি তৃপ্ত ছিলেন।’
সুনামগঞ্জ-৩ আসনের এমপি মুহিবুর রহমান মানিক বলেন, ‘আবুল মাল মুহিত সিলেটের ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ। তাকে হারিয়ে আমরা শোকাহত।’
হবিগঞ্জের এমপি আব্দুল মজিদ খান বলেন, ‘মুহিত ভাইয়ের মৃত্যু কোনো সাধারণ মৃত্যু নয়, একজন কীর্তিমান মহাপুরুষের মহাপ্রয়াণ। তার আদর্শ আমরা অনুসরণ করবো।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




