মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠে। 

চা বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ, নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, ডবলছড়া খাসিয়া পুঞ্জিসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতে পা ফেলার ঠাই নেই।


জানা যায়, ঈদের দিন থেকে ব টানা তিন দিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা। মাধবপুর লেক ও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে দেখা মিলে দুর-দুরান্ত থেকে আগত পর্যটনপ্রেমী ভ্রমণ পিয়াসুদের। স্বপরিবারে ঘুরতে আসা পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। ঈদের দিন লোকজনের উপস্থিতি ছিল অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। 

বৃষ্টি উপেক্ষা করেও পর্যটকরা ছুটে এসেছেন জীব বৈচিত্র্যের অপরূপ সমাহার ঘুরে দেখতে।

 

মাধবপুর চা বাগান ও পদ্মছড়া নয়নাভিরাম মনোরম দৃশ্য পাহাড়ি টিলার উপর সবুজ চা বাগানের সমারোহ, জাতীয় ফুল দুর্লভ বেগুনী শাপলার আধিপত্য, ঝলমল স্বচ্ছ পানি, ছায়া নিবিড় পরিবেশ, শাপলা শালুকের উপস্থিতি আনন্দের বাড়তি মাত্রা যুক্ত করেছে। লেইকে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

ডবলছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, শমসেরনগর বাগীছড়া লেক, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধসহ কমলগঞ্জের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল দেখার মতো। তবে ঝর্ণাধারা হামহাম জলপ্রপাতে পর্যটকদের ভিড় কিছুটা কম ছিল। পানি কম তাছাড়া, হামহাম জলপ্রপাতে ভ্রমণ করতে পুরো একদিনের প্রয়োজন। আর ৭/৮ কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হয়। কিন্তু ঈদে বিভিন্ন ইভেন্টে ভ্রমণপ্রেমী পর্যটকরা আসছেন হামহাম জলপ্রপাত দেখতে। তাদের মধ্যে তরুণ-তরুণীর সংখ্যাই বেশী।

 

ঈদের ছুটিতে লাউয়াছড়ায় জাতীয় উদ্যানে ঘুরতে আসা নরসিংদীর স্কুল শিক্ষক মো: নাসিম মিয়া, কুমিল্লার ব্যবসায়ী আবির আহমেদ, ঢাকার ব্যবসায়ী কামাল আহমেদ, সিলেট থেকে চাকুরীজীবি সালাউদ্দিন আহমেদ, হবিগঞ্জ থেকে কলেজ ছাত্রী ফরিদা বেগম, কলেজ ছাত্র রিপন আহমেদ, কুলাউড়া থেকে বেলাল মিয়া, গৃহিণী সুমাইয়া আক্তার সিলেটভিউকে জানান, লাউয়াছড়ার বন একটি সমৃদ্ধ বন। প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্য্য আর জীব বৈচিত্র্যে ভরপুর এই বনটি যে কেউ দেখলে মন জুড়িয়ে যাবে।

লাউয়াছড়া ইকো টুরিস্ট গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আহাদ মিয়া বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে লাউয়াছড়াসহ সব পর্যটনকেন্দ্রে প্রচুর পর্যটকের আগমন হয়। ঈদের দিন বৃষ্টি থাকলেও পর্যটকের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো ছিল। কিন্তু ঈদের পরের ৭দিন পর্যন্ত পর্যটক বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।’

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান সিলেটভিউকে বলেন, পর্যটন পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা সার্বক্ষনিক মাঠে ছিল। সকল পর্যটক এরিয়া থানা পুলিশের একটি টিকে নিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখছি। কারণ ঈদ আসলেই পর্যটকের ঢল নামে তাই নির্বিঘেœ পর্যটকরা ঘুরতে পারে সেইজন্য আমরা তাদের নিরাপত্তার জন্য পর্যবেক্ষন করছি।

 

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লাউয়াছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, এ ঈদের অন্যান্য সময়ের তুলনায় পর্যটকের সমাগম অধিক ঘটেছে। তবে ঈদে পর্যটকদের উপস্থিতি সব সময়েই বেশি হয়ে থাকে। পর্যটন পুলিশের পাশাপাশি পুলিশ, র‌্যাব ও সিএমসি সদস্যদের নিয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও প্রকৃতি ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/জেএ/এসডি-২৯