ইউক্রেনের মারিউপোলের আজভস্টাল স্টিল কারখানার ভেতর আটকে থাকা যোদ্ধারা একটি বিরল অনলাইন সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে আজভ রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট ইলিয়া সামোইলেনকো রুশ বাহিনীর আত্মসমর্পণ নিয়ে মুখ খুলেছেন। বিবিসি রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
লেফটেন্যান্ট ইলিয়া সামোইলেনকো সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আত্মসমর্পণ কোনো বিকল্প নয়, কারণ রাশিয়া আমাদের জীবন নিয়ে মোটেও ভাবছে না।
তিনি আরও বলেন,আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ অগ্রহণযোগ্য। আমরা শত্রুকে এত বড় উপহার দিতে পারি না। আমার কাছে বন্দি হওয়া মৃত্যুর শামিল।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইউক্রেনে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে এসেছে এমন আগ্রাসণ সৃষ্টিকারী শত্রুর বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করছি।
এদিকে, ওই ইস্পাত কারখানায় আটকে পড়া সব বেসামরিক নারী, শিশু ও বৃদ্ধকে উদ্ধার করা হয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই দেশই বিষয়টি স্বীকার করেছে।
ইস্পাত কারখানা থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছিল এক সপ্তাহ আগে। জাতিসংঘ ও রেডক্রস এই অভিযান পরিচালনা করে।
যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় দুই মাস ধরে অবরুদ্ধ মারিউপোলে আটকে আছে ইউক্রেনের অনেক নাগরিক। সবশেষ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে শহরের আজভস্টাল ইস্পাত কারখানায় আত্মগোপন করেন নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ কয়েকশ যোদ্ধা। পুরো শহর নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলেও ইস্পাত কারখানাটি এখনও ইউক্রেনের সেনাদের দখলে রয়েছে। চারদিক অবরুদ্ধ করে এখানকার আটকে পড়া লোকদের আত্মসমর্পণ করতে আহ্বান জানিয়ে আসছিল ইউক্রেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মারিউপোলের আজভস্তাল স্টিল প্ল্যান্ট থেকে তিন শতাধিক বেসামরিক নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে সেখান থেকে আহত লোকজন ও সেনাদের উদ্ধার করার পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছে। তবে তা অনেক কঠিন হবে বলে মনে করছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট।
তবে শেষ পর্যায়ে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক রেডক্রসের সহযোগিতায় ওই ইস্পাত কারখানা থেকে বেসামরিক নাগরিকদের বের করে নেওয়ার সুযোগ দেয় রাশিয়া।
জাতিসংঘ ও রেডক্রসের নেতৃত্বে সফলভাবে শতাধিক বেসামরিক লোকজনকে কারখানা থেকে সরিয়ে আনায় গুতেরেসকে ধন্যবাদ জানান জেলেনস্কি।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া। ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার পাশাপাশি শুরুতে উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ দিক থেকে স্থল অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। পরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে উত্তর দিক থেকে সেনা সরিয়ে পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে হামলা জোরদার করে মস্কো। কিয়েভ ও দোনবাসের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি রুশ সেনারা।
প্রায় পাঁচ লাখ বাসিন্দার মারিউপোল শহরটি দখল করা রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এই শহরটি আজভ সাগরে ইউক্রেনের কৌশলগত বন্দর এবং দোনবাস অঞ্চলে রুশ-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর কাছেই অবস্থিত।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/জিএসি-০৯
সূত্র : যুগান্তর




