২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত হন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র সুমন চন্দ দাস। 


দীর্ঘ ৭ বছর ধরে মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া চলছে। মৃত্যুর আগে ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে চান সুমনের বাবা মুক্তিযোদ্ধা হরিধন দাস।



মঙ্গলবার সুমন চন্দ দাস’র পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা হরিধন দাস বলেন, ৭ বছর আগে ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর আমার ছেলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। মামলার বিচার শেষ হয়নি এখনও। আমি ও আমার স্ত্রী ছেলের কথা ভাবতে ভাবতে অসুস্থ হয়ে পড়েছি। এখন আমি চলাফেরা করতে পারি না। আমি হাইপ্রেসার ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভোগছি, যে কোন সময় হয়তো মারা যাব। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার একটাই চাওয়া আমি আমার ছেলে সুমন হত্যাকারীদের বিচার দেখে যেতে চাই। 


তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে ছিল এই পরিবারের প্রাণ। সুমনকে হারিয়ে তার বোনরাও সব সময় মনমরা হয়ে থাকে। সাত বছর ধরে এই পরিবারে কোন আনন্দ উল্লাস হয় না।


দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের শ্যামারচর গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা হরিধন দাস (৭০) চার সন্তানের জনক। বড় মেয়ে কাকলী, মেঝো সুমন আর ছোট দুই জমজ মেয়ে চম্পা ও অলি। সিলেটে লেখাপড়া করতে গিয়ে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একমাত্র ছেলে সুমন দাস মারা গেলে পরিবারে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। এখনও সুমনের কথা মনে করে কিছুক্ষণ পর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা প্রতিমা দাস। তিনিও দীর্ঘদিন ধরে হাইপ্রেসার ও ডায়াবেটিস রোগে ভোগছেন। 


সুমনের মা প্রতিমা দাস বলেন, আমি আজও বেঁচে আছি সন্তানের স্মৃতি আগলে ধরে। আমি বিশ্বাস করি সুমন হত্যাকারীরা একদিন শাস্তি পাবে।


কান্না জড়িত কন্ঠে তার ছোট বোন চম্পা দাস বলেন, আমাদের একটাই দাবি, ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই।


এদিকে তাদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজাল জানান, গত ২১ এপ্রিল ছাত্রলীগ কর্মী সুমন দাশ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক জহির হোসাইন, সহ-সভাপতি এস কে হাসিবুর রহমান, নূরে আলম, ছাত্রলীগকর্মী জুনায়েদ আহমদ ও মো. জেসমুল হাসান আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগারে পাঠান। এছাড়াও আরও ৪ জন আসামি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত জামিন মঞ্জুর না করে তাঁদের কারাগারে প্রেরণ করেন। 


এরা হলেন- শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আল আসাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ তালুকদার, মোস্তাক আহমদ মিয়াজী ও ছাত্রলীগকর্মী নয়ন চৌধুরী।


অন্যদিকে নির্ধারিত দিনে শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ায় সুমন দাশ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সাঈদ আকন্দ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম সবুজ, সহ সভাপতি সৈয়দ জুয়েল, শরিফুল ইসলাম বুলবুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আশিকুজ্জামান রূপক ও ছাত্রলীগ কর্মী সজল চন্দ্র ভৌমিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালত।


প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ছাত্রলীগের কর্মী সুমন দাস। ঘটনার পরদিন তাঁর মা প্রতিমা দাস বাদী হয়ে সিলেট মহানগরের জালালাবাদ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/এইচপি/এসডি-০২