চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার গোকুলখালী গ্রামের তামান্না তাছরিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়া পদে নিয়োগ পান গত বছরের নভেম্বরে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো বেতন-ভাতা পাননি। বরং চাকরি নেওয়ার সময় এক লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন। কবে বেতন-ভাতা পাবেন তা-ও অনিশ্চিত।
একই অবস্থা চুয়াডাঙ্গা জেলার ১৮৪ জনের।
এ ঘটনায় দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কমিটির সদস্যরা গতকাল বুধবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এসে তদন্ত শুরু করেন। নিয়োগ পাওয়া ৬০ জনের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নেন।
দীর্ঘ ছয় মাস বেতন না পাওয়া এসব কর্মী অভিযোগ করেন, তাঁরা বিভিন্ন মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি জানতে পারেন এবং ৬০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিয়ে চাকরি পান। নিয়োগপত্র পাওয়ার পর জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে যোগ দেন এবং কাজ করেন। কিন্তু ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো বেতন-ভাতা পাননি।
জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের ৭ জুলাই ঢাকার মোহাম্মদপুরের গোল্ডেন সার্ভিস লিমিটেডের পরিচালক স্বাক্ষরিত একটি চিঠি চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসে এসে পৌঁছে। চিঠিতে জানানো হয়, করোনা মহামারিতে মানুষকে সেবা দিতে চুয়াডাঙ্গা জেলায় বিভিন্ন পদে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে চায় তারা। এটি অলাভজনক ও সেবামূলক একটি প্রতিষ্ঠান। নিয়োগকৃত লোকবলের বেতন-ভাতার সব ব্যয় গোল্ডেন সার্ভিস লিমিটেড বহন করবে। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সম্মতি জানান তৎকালীন সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান। এরপর চুয়াডাঙ্গার স্বাস্থ্য বিভাগে আয়া, ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রভৃতি পদে ১৮৪ জনকে নিজস্ব প্যাডে নিয়োগ দেয় গোল্ডেন সার্ভিস লিমিটেড। নিয়োগপত্রে বলা হয়, ‘এই নিয়োগ আস্থা প্রকল্পের আওতাধীন নিয়োগ হিসেবে গণ্য হবে। মাসিক বেতন-ভাতা-সম্মানী প্রতি মাসের ১ তারিখ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে প্রদান করা হবে। ’
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমি সাবেক সিভিল সার্জনের কাছাকাছি থাকায় আমাকে জড়ানো হচ্ছে। ’
প্রধান সহকারী রোকেয়া খাতুনের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও ধরেননি।
এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে সাবেক সিভিল সার্জন এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, ‘গোল্ডেন সার্ভিসের নিয়োগপত্র অনুযায়ী লোকজনকে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের নিয়োগ দেয়নি। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আমাকে জড়ানো হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা মিথ্যা। ’
তদন্ত কমিটির সভাপতি ও খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক (স্বাস্থ্য) মো. মনজুরুল মুরশিদ বলেন, ‘আস্থা প্রকল্পে নিয়োগ পেয়ে বেতন পাননি, এমন ৬০ জনের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁদের লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। সব কিছু যাচাই-বাছাই করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আমরা তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেব। ’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/জিএসি-০৮
সূত্র : কালের কণ্ঠ




