সিলেটের জকিগঞ্জে নৃশংসভাবে হামলা করে বৃদ্ধকে হত্যাচেষ্টাকারী সেই আলোচিত ইউপি মেম্বার আব্দুল মুকিতকে অবশেষে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। 

রবিবার (২২ মে) বেলা ১১টার দিকে আব্দুল মুকিত সিলেট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (জকিগঞ্জ) আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিজ্ঞ বিচারক শ্যাম কান্ত সিনহা তার আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশন প্রদান করেন। 


বিষয়টি সিলেটভিউ-কে নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী কাওছার রশিদ বাহার। 

ইউপি সদস্য আব্দুল মুকিতের নেতৃত্বে গত ৩১ মার্চ ছবড়িয়া গ্রামস্থ গফুর ভেরাইটিজ স্টোরে সন্ত্রাসী হামলা করা হয়। এসময় ওই দোকানের মালিকসহ ৪ জন গুরুতর আহত হন। হামলায় আহতরা হলেন- উপজেলার ছবড়িয়া গ্রামের আব্দুল গফুর, আব্দুল গফুরের ছেলে দিদারুল ইসলাম, আব্দুল গফুরের স্ত্রী আঙ্গুরুন নেছা ও ছবড়িয়া গ্রামের আব্দুল মন্নানের ছেলে জাবের আহমদ। এ ঘটনায় পরবর্তীতে দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু প্রধান অভিযুক্ত আবদুল মুকিতসহ বাকি আসামিরা এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলো। তবে অবশেষে রবিবার আদালত প্রধান আসামিকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।  

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়- জকিগঞ্জ উপজেলার ছবড়িয়া গ্রামের মাসুক উদ্দিনের ছেলে ও বর্তমান ইউপি মেম্বার আব্দুল মুকিতের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী এলাকায় নানা অপরাধ অপকর্মের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। তাদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসী হামলা-মামলা ও লুটপাটের শিকার হতে হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ মার্চ আব্দুল মুকিতের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী একই গ্রমের আব্দুল মন্নানের ছেলে জাবের আহমদকে মারধর করে এবং এক পর্যায়ে খুন করার চেষ্টা চালায়। জাবের নিজেকে রক্ষা করতে দৌঁড়ে গ্রামের আব্দুল গফুরের দোকানে গিয়ে আশ্রয় নেন। এসময় আব্দুল মুকিত ও তার সহযোগিরা দোকানে গিয়ে জাবেরকে মারপিট করে তুলে নিয়ে যেতে চাইলে আব্দুল গফুর বাঁধা দেন। এসময় ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুল মুকিত ধারালো অস্ত্র দিয়ে আব্দুল গফুরের মাথায় একাধিক কোপ দেয়। এসময় আব্দুল গফুর মাটিতে লুটে পড়লে হামলকারীরা কাঠের রোল ও রড দিয়ে বেদম পিটিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে।

চিৎকার শুনে আব্দুল গফুরকে উদ্ধার করতে তার ছেলে দিদারুল ইসলাম ও স্ত্রী আঙ্গুরুন নেছা এগিয়ে আসলে আব্দুল মুকিত এবং তার বাহিনীর সদস্যরা তাদেরকেও মারধর করে। এসময় দোকানের ক্যাশ থেকে দেড়লাখ টাকা লুট করে নিয়ে চলে যায় আব্দুল মুকিত এবং তার বাহিনীর সদস্যরা।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে আব্দুল গফুর ও তার ছেলে দিদারুল ইসলামের অবস্থা আশংকজনক হওয়ায় তাদেরকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে পাঠান। বৃদ্ধ আব্দুল গফুরের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর ছিলো। ওসমানী হাসপাতাল থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে সফল অস্ত্রোপচার শেষে গত সপ্তাহে তিনি বাড়ি ফিরেছেন। 

এদিকে, এ ঘটনায় আব্দুল গফুরের ছেলে জসিম উদ্দিন বাদি হয়ে গত ১ এপ্রিল ইউপি সদস্য আব্দুল মুকিতকে প্রধান আসামি করে ও ৫ জনকে এজাহারভুক্ত করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০ জনের বিরুদ্ধে জকিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

এজাহারভুক্তরা হচ্ছেন- সিলেটের জকিগঞ্জ থানার ছবড়িয়া গ্রমের মাসুক উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মুকিত, কেই গ্রামের মৃত মছদ্দর আলী মখনের ছেলে শামীম আহমদ, মাসুক উদ্দিনের পুত্র আব্দুল মুতলিব মৃতুল, মৃত মনই মিয়ার পুত্র হারুণ আহমদ ও মারুফ আহমদ।
 
মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে হামলাকারী শমীম আহমদ ও হারুণ আহমদকে গ্রেফতার করলেও ঘটনার মূল হোতা ইউপি সদস্য আব্দুল মুকিত এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাকে ধরতে পারেনি পুলিশ। অবশেষে রবিবার আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করলে সেই আবেদন নামঞ্জুর করেন বিজ্ঞ আদালত। 


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম