ছবি : সিলেটভিউ

সিলেট নগরীর নিচু ও সুরমা নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে প্রচন্ড ধাক্কা দিয়ে গেলো আকস্মিক বন্যা। এক সপ্তাহ দাপট দেখিয়ে গত ২০ মে থেকে নামতে শুরু করে বন্যার পানি।

বুধবার (২৫ মে) নগরীর আর কোনো সড়কে পানি দেখা যায়নি। তবে পানি সরে গেলেও বন্যকবলিত এলাকাগুলোর এলাকার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে মহল্লার গলি-রাস্তাগুলোতে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এছাড়া পচা পানির দুর্গন্ধ ও সড়কে জমে থাকা কাদামাটি পথচারীদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


নগরবাসীর ভোগান্তির দূর করতে মঙ্গলবার (২৪ মে) থেকে কাজ শুরু করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। মঙ্গলবার নগরীর ১০নং ওয়ার্ড থেকে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছে সিসিক। বুধবার দিনভর শাহজালাল উপশহরে চালানো হয়েছে এ কার্যক্রম। ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে এলাকা জীবানু ও দুর্গন্ধমুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন করপোরেশনের কর্মীরা।

বুধবার সকালে শাহজালাল উপশহর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ওই এলাকার ভেতরের বিভিন্ন ব্লকের সড়কগুলো বেহাল। সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাদামাটিতে পথচারীদের জুতা আটকে যাচ্ছিল। পানিতে ভেসে আসা খালি বোতল, পলিথিনের ব্যাগ, পাইপ, বস্তা, গাছের ডাল সড়কের পাশেই জড়ো হয়ে থাকতে দেখা গেছে। সড়কের কোনায় জমে থাকা পানিগুলো কালো রং ধারণ করেছে। এসব পচা পানি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে।

শাহজালাল উপশহর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, পুরো এক সপ্তাহ বন্যায় একধরনের ভোগান্তির মধ্যে ছিলাম। এখন পানি নেমে আরেক ভোগান্তিতে পড়েছি। পচা পানিও ময়লা-আবর্জনার  উৎকট গন্ধ। হেঁটে চললে শরীরে নোংরা পানি ছিটিয়ে পড়ছে। এ পানি শরীরে লাগলেই শুধু চুলকায়। ইতোমধ্য বেশ কয়েকজনের শরীরে চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। অপরদিকে, রিকশা কিংবা গাড়িতে চড়লে সড়কের খানাখন্দের কারণে সমস্যা হচ্ছে। আর তো আছেই।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি জানান, জলাবদ্ধ এলাকাগুলো থেকে পানি নেমে গেছে। ওই সব এলাকা পরিচ্ছন্ন করতে মঙ্গলবার সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অভিযান শুরু হয়েছে। বন্যার পানি নামার পর যেসব স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে ছিলো সেগুলো পরিচ্ছন্ন করে ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হচ্ছে। বুধবার নগরীর উপশহরে বৃহৎ পরিসরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। বন্যাকবলিত সব এলাকায় এভাবে অভিযান চলবে।

সিসিকের ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছালেহ আহমেদ সেলিম সিলেটভিউ-কে বলেন, উপশহরে বন্যা পরবর্তী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে। আজ (বুধবার) সি ব্লকের ৩৭ এবং ৩৮ নম্বর রোডে মেশিনের মাধ্যমে বাতাস দেয়া হয় এবং ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হয়েছে। এ ব্লকের ৪০ ভাগ ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করা হয়েছে। উপশহরে ১০দিন এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। 


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম