বৃষ্টি বা ঝড়ো হাওয়া এলে চলে যায় বিদ্যুৎ। বছরের এই সময়টিতে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া হয়। সিলেটে বৃষ্টি বা ঝড়ো হাওয়া বইলে বিদ্যুৎ চলে যাবে এটি যেন নিয়মিত ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। এমন অবস্থা সিলেটে চলছে বেশ কয়েকমাস ধরেই। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সিলেটবাসীকে।
বৃষ্টিপাত শুরু হলেই সিলেটের বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলা আরম্ভ হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমন চলতে থাকে সিলেটে। বিদ্যুৎ এমন ভোগান্তির কারণে বেশির ভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
গ্রাহকদের অভিযোগ, একটু বাতাস কিংবা বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ বিভাগ সংযোগ বন্ধ করে দেয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যায় না। আবার সংযোগ দিলেও কিছুক্ষণ পরপর ফের বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
নগরীর তালতলা এলাকার ফার্মেসি ব্যবসায়ী মিজান বলেন, “বিদ্যুৎ ভোগান্তির কারণে আমাদের ব্যবসা করা দায় হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন অসংখ্যবার বিদ্যুৎ এর লোডশেডিং হয়ে। ফলে আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অনেক ঔষধ আছে যা ফ্রিজে রাখতে হয়, সেগুলো নষ্ট হচ্ছে।”
আরেক ব্যবসায়ী আবিদ বলেন, “বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকে। বিদ্যুৎ অফিসে কল দিলে তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখায়। শুষ্ক মৌসুমে ঠিকমতো গাছের শাখা-প্রশাখা কাটা হয় না। পুরোনো লাইন, খুঁটি ও ট্রান্সমিটার এসব পরিবর্তন করে না। ফলে হালকা ঝড়-বৃষ্টি হলেই নানা সমস্যা দেখা দেয়।”
বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলার কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বাউবো) সিলেট এর নির্বাহী প্রকোশলী- বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর প্রকোশলী মো. ফজলূল করিম বলেন, “ঝড়-বৃষ্টিতে লাইনের উপর গাছ-পালাসহ অনেক কিছু পড়ে তখন অটোমেটিক লাইন বন্ধ হয়ে যায় নিরাপত্তার স্বার্থে, যাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে। এছাড়া শহরের অধীকাংশ বিল্ডিং এর উপর কাপড় শুকাতে দেয়া হয় আবার বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার রয়েছে। ঝড় বৃষ্টির সময় সেগুলো লাইনে উপর পরে ক্ষতি করে। শহরের ভিতর কেউ যদি অভিযোগ করে তাহলে তা দ্রুত সমাধানে চেষ্টা করা হয়। তা না হলে সকল স্পেন চেক করতে হয়। দিনের বেলা বিদ্যুৎ এর কোন সমস্যা হলে তা দ্রুত সমাধান করা হয়, তবে রাতে কাজ করতে একটু বেগ পেতে হয়। এছাড়া ঝুঁকি এড়াতে মেরামত করার সময় বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ রাখা হয়।
বিদ্যুতের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, সিলেটে বিদ্যুতের ঘাটনি নেই, কারিগরি কারণে বিদ্যুতের সমস্যা হচ্ছে। তবে খুব দ্রুতই এই সমস্যা থাকবে না।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/এনএপি/এসডি-২২




