সিলেটের জৈন্তাপুরে সম্প্রতি অপহরণকারী চক্রের অপতৎপরতা বেড়েছে। নারী ও পুরুষ নিয়ে গঠিত চক্রটি থেকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছেন জৈন্তাপুর মডেল থানাপুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গেল সপ্তাহ থেকে জৈন্তাপুর উপজেলায় হঠাৎ করে নারী ও শিশু অপহরণ করা হচ্ছে। অপহরণকারী চক্রের নারী ও পুরুষ সদস্যরা উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেছে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্রীদের টর্গেট করে অপহরণ করছে। ইতোমধ্যে চক্রটির সদস্যদের ধারা ৭ জুন সেন্ট্রাল জৈন্তা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর ছাত্রী ফান্দু গ্রামের মারুফা বেগম অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা দিতে বাড়ী থেকে বের হয়। এসময় অপহরণকারী চক্রের দুই মহিলা মারুফাকে একটি কাগজ পড়ে দিতে বলে। কাগজ হাতে নিয়ে পড়ার আগেই দুই মহিলা কাগজটি মেয়েটির মুখে ঢুকে দিয়ে টমটম ইজিবাইকে ছাত্রীটিকে তোলে নেয়। পরে ছৈয়া এলাকায় পৌছালে ছাত্রীটি ধস্তাধস্তি করে টমটম গাড়ী হতে লাফ দিয়ে পড়ে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়।


অপরদিকে ২৯ মে সেন্ট্রাল জৈন্তা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী বাড়ী থেকে বের হয়ে বিদ্যালয়ে আসার পথে নিখোঁজ হয়। একই ভাবে ২০ মে চিকনাগুল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী স্কুল হতে বাড়ী ফেরার পথে নিখোঁজ হয়। দুটি মেয়ের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি, বরং তারা নিখোঁজ রয়েছে। তাদের পরিবারের পক্ষ হতে থানায় নিখোঁজের জিডি করা হয়েছে। পুলিশ দেশে জুড়ে তাদের অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

৭ জুন মঙ্গলবার ছাত্রী অপহরনের ঘটনার চেষ্টার পর হতে জৈন্তাপুর থানা পুলিশ বিষয়টি নিয়ে নড়ে চড়ে বসে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৬টি ইউনিয়ন পরিষদ সহ পাড়া মহল্লার মসজিদ, মন্দির, হাটবাজারে সর্তকবার্তা জারী করা হয়। সেই সাথে অপহরণকারীদের ধরিয়ে দিতে সচেতন মহলকে আহবান করা হয়। অভিভাবক ও শিক্ষক মহলকে শিক্ষর্থীরা বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে সর্তক থাকার আহবান জানান।

জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম দস্তগীর আহমদ বলেন, দুটি বিদ্যালয়ের ছাত্রী নিখোঁজের পর অভিভাবকরা থানায় জিডি করেন।

৭ জুন মঙ্গলবার স্কুল ছাত্রী অপহরণের স্বীকার হওয়ার পর ঘটনাটি জানতে পেরে উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উপজেলা জুড়ে সর্তকতামুলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। সেই সাথে অপহরণকারীকে ধরতে পুলিশ সর্বাত্মক সহযোগিতার আহবান জানান।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরকেএস/এসডি-০৮