জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের জন্য বাজেট পেশের দিন গত বৃহস্পতিবার সয়াবিন তেলের দাম লিটারে সাত টাকা বাড়ানো হয়েছে। এই নতুন দামের তেল বাজারে আসতে আরো দুই-তিন দিন লাগবে। কিন্তু গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ও অলিগলির দোকানে আগের দামের (১৯৮ টাকা) বোতলজাত তেল নতুন দামে (২০৫ টাকা) বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বাজেট প্রকাশের পরদিন গতকাল রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে এই সয়াবিন তেল ছাড়া অন্য কোনো পণ্যে তেমন প্রভাব পড়েনি।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, কেবল বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে, আরো কয়েক দিন পর যখন কম্পানি থেকে দাম বাড়ানো বা কমানো হবে, তখনই আসলে বাজেটের ফলে পরিবর্তিত দামের দেখা মিলতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেল ১৯৮ টাকা থেকে সাত টাকা বাড়িয়ে ২০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮০ টাকা থেকে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ১৮৫ টাকা করা হয়। এদিকে খোলা পাম তেল লিটার ১৭২ টাকা থেকে ১৪ টাকা কমিয়ে ১৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বৃহস্পতিবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়।
রাজধানীর জোয়ার সাহারা বাজারের এক খুচরা ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না শর্তে বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ার বিষয়টি তেল সরবরাহকারী কম্পানিগুলো আমাদের আরো আগেই জানিয়ে রেখেছিল। তাই আমাদের আগের চেয়ে কিছু বাড়তি দামে তাদের কাছ থেকে তেল কিনতে হয়েছে। তাই আমরাও বাজারে এখন নতুন দামেই তেল বিক্রি করছি। ’
সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, ‘বিশ্ববাজারে এখনো সয়াবিন তেলের দাম না কমা এবং ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই মূলত এখন সায়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। তবে পাম তেলের দাম বিশ্ববাজারে কমার কারণে দেশের বাজারেও দাম কমানো হয়েছে। খুব দ্রুতই নতুন দামের বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে সরবরাহ হবে বলেও তিনি জানান।
গত সপ্তাহের তুলনায় বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। বাজারে বেগুন প্রতি কেজি ৫০-৬০, ধুন্দল ৪০, পটোল ও চিচিঙ্গা ৪০-৫০, পেঁপের ৫০, করলা ৬০, ঢেঁড়স ৫০ এবং কচুর লতি ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় শসার দাম কিছু বেড়ে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ১০ টাকা বেড়ে গাজর ১৬০ এবং টমেটো ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে প্রতি পিস চাল কুমড়া ৪০-৫০, প্রতি পিস লাউ ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু ২৫ এবং পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া চায়না রসুন ১৫০-১৬০ টাকা কেজি, দেশি রসুন ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিম ডজন ১২৫ টাকা, হালি ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে, প্রতি কেজি ৭০০ টাকা। খাসির মাংসের কেজি ৯০০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সপ্তাহ ব্যবধানে মাছের দাম বাড়েনি। রুই মাছে কেজি ২৫০-২৮০, বড় রুই ৩০০-৪৫০, পাবদা ৩৫০-৪৫০, তেলাপিয়া ও পাঙ্গাশ ১৫০-১৬০, শিং মাছ সাইজভেদে ৩০০-৫০০, মলা মাছ ৩৫০-৪০০ এবং চিংড়ি আকারভেদে ৬০০-৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/জিএসি-১০
সূত্র : কালের কণ্ঠ




