সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে প্রচার প্রচারণা শেষ হয়েছে। মাইকে ভোট প্রার্থনা, উপজেলা সদর থেকে প্রত্যন্ত পাড়া মহল্লায় প্রার্থী সমর্থকদের গণসংযোগ,  বিভিন্ন পয়েন্ট বা বাজারে পথসভাসহ জনে জনে ভোট প্রার্থনার শেষ হয়েছে সোমবার (১৩ জুন)।

 


রাত পোহালেই বুধবার (১৫ জুন) সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোটগ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।

তবে এই উপ নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তেমন কোন আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়নি। বিএনপি, জাতীয় পার্টির দলীয় প্রার্থীর ছাড়া এই নির্বাচন অনেকটা আমেজহীন। আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থী দুইজনের মধ্যকার এই নির্বাচনে ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসাই মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

নির্বাচনের প্রচারণার শেষদিন আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রতীকের প্রার্থী মঞ্জুর কাদির শাফি এলিম চৌধুরীর পক্ষ জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ প্রচারণা ও পথসভায় অংশগ্রহণ করেন।

 

বিকেল তিনটায় গোলাপগঞ্জ চৌমুহনী এবং রাত আটটায় হেতিমগঞ্জ বাজারে গণসংযোগ ও পথসভায় অংশগ্রহণ করেন তারা।

 

এসময় তারা বলেন, ‘শেখ হাসিনা যাচাই-বাছাই করে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে এলিমকে নৌকা দিয়েছেন। এলিম নির্বাচিত হলে গোলাপগঞ্জে শেখ হাসিনার উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হবে এবং গোলাপগঞ্জবাসী এর সুফল পাবেন। গোলাপগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে নৌকায় ভোট দেয়ার আহবান জানান তারা।’

 

অপরদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের ভিপি শফিক উদ্দিনের পক্ষে ভোট চেয়ে মোটর শোভাযাত্রা উপজেলার বিভিন্ন বাজার প্রদক্ষিণ করে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এই প্রার্থী শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত ভোটারদের সমর্থন আদায়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

রাতে প্রচার প্রচারণা শেষে এখন চলছে ভোটের হিসাব নিকাশ। কোথায় কার ভোটার আছেন, কে কাকে ভোট কেন্দ্র নিয়ে আসবেন। কোথায় কত ভোট পাওয়া যাবে, পক্ষে ও বিপক্ষের কে কী করছেন ইত্যাদি আলোচনা চলছে প্রার্থী সমর্থনদের মধ্যে। ভোটকেন্দ্র এজেন্ট, কেন্দ্র সংলগ্ন অফিস, ভোটার আনা নেয়া এসব বিষয়ে চলছে পরিকল্পনা।

এদিকে ভোটাররাও ভোট প্রদানে যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দিবেন বলে জানান। যদিও অনেকেই উপনির্বাচন নিয়ে কোন আগ্রহ নেই বলে জানান। অনেককে জিজ্ঞেস করলে বলেন শুনছি ১৫ তারিখে ভোট তবে কিসের ভোট ফিরতি প্রশ্নে জানতে চান। এমপি দিলাম, উপজেলা দিলাম, ইউনিয়ন দিলাম এখন কিসের ভোট বলে প্রশ্ন করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী মারা যাওযায় এই উপজেলা নির্বাচন বলে জানালে মরহুম ইকবাল আহমদ চৌধুরীর কথা স্মরণ করে শোক প্রকাশ করেন।

 

এদিকে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। উপজেলায় ১০২ টি কেন্দ্রে ৬২৫টি বুথে ২ লক্ষ ৪০ হাজার ১০০ জন ভোট দেবেন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১১৮০০৩ লক্ষ ১৮ হাজার ৩ জন এবং পুরুষ ভোটার হাজার ১ লক্ষ ২২ হাজার ৯৭ জন।

 

এছাড়া ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় প্রতি কেন্দ্রে ১৫ জন আনসার ও ৫ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। সাথে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রটের নেতৃত্বে র্যাব ও বিজিবির  টিম নিয়োজিত থাকবে। ইতিমধ্যে নির্বাচনী সামগ্রী নিয়ে কর্মকর্তারা কেন্দ্রে পৌঁছে গেছেন।

 

উপজেলা নির্বাচন ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।

 

প্রসঙ্গত, গত ১৯ ফেব্রুয়ারী উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুতে পদটি শূন্য হয়।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/এএইচএ/পিডি/এসডি-৪৭