মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে টানা তিনদিনের বৃষ্টির কারণে জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভাঙ্গাচুরা রাস্তাঘাটে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত বৃষ্টির কারণে উপজেলার ধলাই নদীতেও পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যার আশংকায় মানুষজন আতংকে রয়েছে।
কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি থামলেও এসব খেতের সবজি অতিরিক্ত পানির কারণে বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া আমন ধানের বীজতলা ও আউশধানের অনেক চারা গাছ বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বয়ে চলছে। অতিরিক্ত বৃষ্টি হলেও এ উপজেলায় বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষকরা জানান, গত কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে সবজি ক্ষেত, আমনের বীজতলা ও আউশক্ষেত তলিয়ে শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। বৃষ্টি কমলেও বেশির ভাগ সবজি ক্ষেত আর বাঁচানো যাবেনা। মৌসুমের এই সময়ে এমনিতেই সবজির কিছুটা অভাব থাকে। এছাড়াও আউশের চারা, আমনের বীজতলাও অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা। টানা বৃষ্টির কারণে রিকশা, ভ্যান গাড়ি, দিনমজুর ও ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের আয় বন্ধ হয়ে পড়েছে। হাটবাজারে মানুষের সমাগমও কমে গেছে।
.jpg)
পতনঊষার ইউনিয়নের সবজি চাষি হেলাল মিয়া, শমশেরনগরের ঠেলা চালক আব্দুল্লা মিয়া, অটো চালক খালিক মিয়া বলেন, বৃষ্টিতে বেগুন, জিঙা, করলা, বরবটি ও ঢেঁড়স ক্ষেত নষ্ট হওয়ার পথে। আর আয় রোজগার একেবারেই বন্ধ রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কষ্টে দিন কাটতে হচ্ছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে সবজির কিছুটা ক্ষতি হবে। গত দু’দিনের বৃষ্টিতে বেশ কিছু সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। যদি বন্যা না হয় তাহলে আউশ ধানের চারা গাছের তেমন ক্ষতি হবে না।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আনিসুর রহমান জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত ৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আরও দু’দিন এধরণের আবহাওয়া থাকতে পারে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/জেএ/এসডি-১১




