সিলেটের ওসমানীনগরে বৃহস্পতিবার সকলে বন্যার পানি ধীর গতিতে কমলেও বেড়েছ বিকালে। বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিরামহীন বৃষ্টিপাতে ২-৩ ইঞ্চি পানি বৃদ্ধি পয়েছে। গত ১সপ্তাহ পানিবন্দি থাকার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ধীর গতিতে পানি কমায় আশ্রয়কেন্দ্র থাকা ও পানিবন্দিরা স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলছেন।

 


বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ৩১ সেঃমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী সাদিপুর এলাকায় ২ থেকে ৩ ইঞ্চি বন্যার পানি কমেছিলো। বিকালে পানিবৃদ্ধির পর আবারো বন্যা আক্রান্তদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা প্রশাসেনর পক্ষ থেকে বাড়ানো হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা।

 

জানা গেছে, অতি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার প্রায় দেড় শতাধিক গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত রয়েছে। এতে উপজেলার আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ডাইকের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের সবকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকলে বন্যার পানি ধীর গতিতে কমলেও বেড়েছ বিকালে। বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিরামহীন বৃষ্টিপাতে ২-৩ ইঞ্চি পানি বৃদ্ধি পয়েছে। বন্যার পানি অব্যাহত বৃদ্ধি পাওয়ায় আশ্রয় কেন্দ্র্রে উঠছেন পানিবন্দি মানুষ। তবে বেশির ভাগ আশ্রয়কেন্দ্রও রয়েছে পানিবন্দি। তলিয়ে গেছে আশ্রয়কেন্দ্রের টিওয়ব ওয়েল। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।

 

বন্যার পানিতে টিওয়ব ওয়েল তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট কাটিয়ে উঠতে ইতিমধ্যে বন্যা আক্রান্তদের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে থেকে পানি বিশুদ্ধকরণ ১০ হাজার ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে।

বন্যার পানিতে ২হাজার ৯৫ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে রয়েছে। ফলে গবাদি পশু নিয়েও বিপাকে রয়েছেন অনেকেই।

এদিকে, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত এক হাজার ৩১ পরিবারের ৮৪ হাজার ৯শ ৮০ জন মানুষ বন্যাক্রান্তদের তালিকা করে উপজেলা প্রশাসন। এবং খোলা হয় ৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র। সরকারি আসে বরাদ্দ ২৪ মেট্রিক চাল ও নগদ সাড়ে তিন লক্ষ টাকা।ওই দিন উপজেলায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং প্যানেল চেয়ারম্যান। একদিন পরে বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রশাসনের তালিকায় বৃদ্ধি পেয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রেসহ বন্যা আক্রান্তদের সংখ্যা।

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ১৫শ৯৯টি পরিবারের ১লক্ষ ২০ হাজার মানুষ বন্যাক্রান্ত রয়েছে। ৬৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এপর্যন্ত ৮৬ মেঃটন চাল ও নগদ ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন কান্তি রায় বলেন, পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যাক্রান্তদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা বন্যাক্রান্তদের সঠিত তথ্য তুলে আনার চেষ্টা করছি।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরপি/এসডি-৪০