সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে দ্বিতীয় দফা বন্যার পানি অর্ধেক নিচে নামার আগেই আবারো শুরু হয়েছে তৃতীয় দফা বন্যার অশনি সংকেত। ১০ দিন বিরতির পর ভারতের চেরাপুঞ্জিতে গত সোমবার থেকে আবারো শুরু হয়েছে অব্যাহত বৃষ্টিপাত। এর প্রভাব পড়ছে মেঘালয়ের পাদদেশে অবস্থিত সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারসহ বিভিন্ন উপজেলায়।

 


এরই ধারাবাহিকতায় দোয়ারাবাজারে সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত একই নিয়মে দিনে হালকা আর সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত ভারি বর্ষণে সুরমা, চেলা, মরা চেলা, চিলাই, চলতি ও খাসিয়ামারা নদীর দু’পারের উপচে পড়া পানি আবারো প্রবেশ করছে হাওড়, খাল-বিল, মাঠঘাট ও লোকালয়ের দিকে। ফলে সাম্প্রতিক বন্যার অর্ধেক পানি সরে যাওয়া সীমান্তবর্তী বগুলা, লক্ষীপুর, বাংলাবাজার ও নরসিংপুর ইউনিয়নসহ উপজেলার উপরিভাগের বাড়িঘরে আবারো পানি ছুঁই ছুঁই অবস্থা।

 

চলমান বন্যার রেশ কাটিয়ে গবাদি খাদ্যাভাবে জর্জরিত অর্ধমরা গবাদি পশুপাখিসহ বাঁচার স্বপ্ন দেখছিলেন উপরিভাগের লাখো মানুষ। কিন্তু বিধি বাম! গত তিনদিন ধরে আবারো হু হু করে পানি বাড়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন তারা। নতুন নতুন এলাকা আবারো প্লাবিত হচ্ছে প্রতিদিন। এ যেনো মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।

 

এদিকে সাম্প্রতিক বন্যায় ভেসে গেছে শত শত কাঁচা ঘরবাড়ি। প্রাণহানি ঘটেছে তিন শিক্ষার্থীসহ ১৪ জনের। বানের তোড়ে ধস ও ভেঙে যাওয়া ব্রিজ-কালভার্টসহ শতাধিক ভাঙনে জেলা ও উপজেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রয়েছে। একই সময় হেলে ও ধসে যাওয়া ভগ্নদশা ঘরবাড়িগুলো সংস্কার করে বন্যার্ত পরিবার-পরিজন নিয়ে কোনোমতে মাথাগোঁজার ঠাঁই নিতে ব্যস্ত ছিলেন বানভাসিরা। কিন্তু আবারো আগ্রাসি বন্যার হুমকিতে তাদের সে আশা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম। সেই আতঙ্কে গবাদি পশুসহ অনেক পরিবার আবারো নিরাপদ আশ্রয়স্থলে সরে যাচ্ছেন। তবে বৃহস্পতিবার দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হলেও সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত বৈরি আবহাওয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই একই নিয়মে রাতভর বর্ষণ অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি আবারো ভয়াবহ রূপ নেয়ার আশংকা বিদ্যমান।

 

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা প্রিয়াংকা বলেন, চেরাপুঞ্জিতে আবারো অব্যহত ভারি বর্ষণ হচ্ছে। এরই প্রভাবে সোমবার থেকে খাসিয়ামারা, চেলা, চিলাই ও  চলতিসহ সীমান্তের নদীর উপচে পড়া পানিতে মাঠঘাট, খাল-বিল  ভরে গিয়ে সরে এলাকাগুলোতে আবারো পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে ত্রাণ বিতরণসহ প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/টিআই/এসডি-২৬