ঢাকা সাভার ও নড়াইলে শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি বানিয়াচং উপজেলা শাখা। মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে শিক্ষক হত্যা ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে শিক্ষককে জুতার মালা পরানোর মতো ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময় উপস্থিত পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা সদস্যদেরও বিচার দাবি করেন তারা। 

 


সোমবার (৪ জুলাই) বেলা ১১ টার দিকে বানিয়াচং উপজেলা পরিষদের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছেন তারা। 

 


বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি বানিয়াচং উপজেলা শাখার সভাপতি গোলাম আকবর চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক সমিতি বানিয়াচং উপজেলা শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সঞ্জু দাশের পরিচালনায় মানববন্ধনে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ বক্তব্য দেন। এছাড়াও মানববন্ধনে বানিয়াচংয়ের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 


মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জাতি গড়ার কারিগর শিক্ষদের প্রতি এমন নজিরবিহীন বর্বরোচিত ও পাশবিক নির্যাতন শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পিটুনিতে শিক্ষকের মৃত্যু কোনোভাবেই শুভ লক্ষণ নয়। পুলিশের উপস্থিতি শিক্ষককে নির্যাতন, লাঞ্ছিত ও জুতা পরানোর মতো ঘটনা মেনে নেওয়ার মতো নয়। শিক্ষকদের ওপর হামলা, মামলা, নির্যাতনসহ শিক্ষকবিরোধি অপপ্রচার বাংলাদেশকে এক গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত করছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে দেশের সমগ্র শিক্ষক সমাজ আজ বিক্ষুদ্ধ ও আতঙ্কিত। এছাড়াও সারাদেশে প্রগতিশীল এবং সংখ্যালঘু মানুষদের ওপর অবিলম্বে নিপীড়ন বন্ধ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান বক্তারা। তাছাড়া শ্রেণিকক্ষে এবং দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি আহবান জানান তারা। 


উল্লেখ্য, সম্প্রতি সাভারের আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকায় হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করেন জিতু নামের এক কুখ্যাত ছাত্র। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে একদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।


অন্যদিকে নড়াইল মীর্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হানার অভিযোগ এনে তাকে লাঞ্ছিত করা হয়। শুধু তাই নয়, পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে অধ্যক্ষকে জুতার মালা পরিয়ে অপমানিত করা হয়। 

 

এসব ঘটনায় সকল দোষীদের এবং মদদদাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তুির দাবী জানিয়েছেন বক্তারা।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/জউ/ইআ