ফাইল ছবি

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার এলাকার বাসিন্দা জয়নুল হক আলম পরিবার নিয়ে ২০ দিন ধরে পানিবন্দী। বন্যার পানি ঘরে না ঢুকলেও উঠোনে ছিলো হাটুপানি। গত ২০ দিন ধরে উঠা-নামার মধ্য দিয়ে দুদিন আগে উঠোন থেকে পানি নেমে গিয়েছিলো। কিন্তু বুধবার (৬ জুলাই) সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন, বাড়ির উঠোন ফের দখল করে নিয়েছে পানি।

শুধু দক্ষিণ সুরমাই নয়, সিলেটে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ও বুধবার সকালে ভারী বৃষ্টি হওয়ার ফলে সুরমা নদীর দুটি পয়েন্টে এবং লুভা ও সারী নদীর পানি বেড়েছে। পাশাপাশি কিছুটা পানি বেড়েছে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে। তবে কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি পয়েন্টে এবং ধলাই নদের পানি কিছুটা কমেছে।


শঙ্কার এ বৃষ্টি ঈদুল আযহার দিন (রোববার) পর্যন্ত এভাবে অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বুধবার সকালে সিলেট নগরী ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির প্রভাবে নতুন করে কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হলেও মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এবং বুধবার সকালে বৃষ্টির কারণে বন্যাবকলিত বিভিন্ন এলাকায় পানি কিছুটা বেড়ে গেছে। এতে ফের আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এসব এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, দুই দফা বন্যার পর তাঁদের আতঙ্ক বেড়ে গেছে। এ কারণে অনেকেই এখনো বাড়ির বিভিন্ন আসবাব উঁচু জায়গাতই তুলে রেখেছেন। আবার অনেকে বৃষ্টি দেখে বাড়িঘর গুছানোও আপাতত বন্ধ রেখেছেন।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার তুলনায় বুধবার সকাল নয়টায় দশমিক শূন্য ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে ১৩ দশমিক শূন্য ৯ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হয়েছে। তবে একই পয়েন্টে বিকাল ৩টায় ১৩ দশমিক শূন্য ৬ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হয়। 

অপরদিকে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার তুলনায় বুধবার সকাল নয়টায় সুরমার সিলেট পয়েন্টে পানি দশমিক শূন্য ২ সেন্টিমিটার বেড়ে ১০ দশমিক ৪২ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হয়েছে। একই পয়েন্টে বিকাল ৩টায় ১০ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হয়। 

এদিকে, কুশিয়ারা নদীর অমলশিদ পয়েন্টে পানি মঙ্গলবারের তুলনায় পানি সামান্য কমেছে। নদীটির শেওলনা পয়েন্টেও পানি কমেছে। কমেছে শেরপুর পয়েন্টেও। তবে ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। 

সিলেট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ বলেন, বৃষ্টির প্রভাবে পানি কিছুটা বেড়েছে। তবে সেটি বিপৎসম নয়। বৃষ্টি কমে এলে পানি কমে যাবে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম