মঙ্গলবার দিনভর নগরজুড়ে তোলপাড়। সিলেট মহানগরীর নান্দনিক ধোপাদিঘীরপাড় ওয়াকওয়ের ল্যাম্পপোস্ট খুলে ফেলেছেন কারা কর্তৃপক্ষে! এমন শোরগোল, আলোচনা-সমালোচনা।

তবে বিষয়টি 'মিথ্যা' বলে দাবি করেন সিলেটের ডিআইজি  প্রিজন্স মো. কামাল হোসেন ও সিনিয়র জেল সুপার মঞ্জুর হোসেন। বরং তারা এটিকে গুজব বলে উড়িয়ে দেন।


সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ধোপাদিঘী দখল-দূষণে প্রায় হারিয়েই গিয়েছিল। এ দিঘী উদ্ধার করে ভারতের আর্থিক সহায়তায় নান্দনিক ওয়াকওয়ে তৈরি করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। সম্প্রতি সরকারের দুই মন্ত্রী, ভারতীয় হাইকমিশনারকে নিয়ে এই প্রকল্পটি উদ্বোধন করেছেন। 

শুধু ওয়াকওয়ে তৈরিই নয়, দিঘীকে আরও দৃষ্টিনন্দন করতে দুটি চমৎকার ঘাটও তৈরি করা হয়েছে। সার্বিকভাবে পরিত্যাক্ত ধোপাদিঘীর সৌন্দর্যবর্ধনের পর তা সুধিজনের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

তবে মঙ্গলবার (৫ জুলাই) দুপুরে হঠাৎ করেই একটি ল্যামপোস্ট খুলে ফেলার অভিযোগ উঠে কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী স্বয়ং মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। দুপুরের দিকে ল্যাম্পপোস্ট খুলে ফেলার খবর জানতে পেরে তিনি ছুটে আসেন ধোপাদীঘিতে। সঙ্গে আসেন কয়েকজন কাউন্সিলরও। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি অবগত করেন।

তবে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিআইজি প্রিজন মো. কামাল হোসেন  ল্যাম্পপোস্ট অপসারণের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

সিলেটভিউ’র সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কারা কর্মচারীরা ল্যাম্পপোস্ট অপসারণ বা খুলে ফেলে দেয়নি।

এ প্রসঙ্গে সিলেটের সিনিয়র জেল সুপার মো. মঞ্জুর হোসেন বলেন, আমাদের এত স্টাফ নেই যে ল্যাম্পপোস্ট অপসারণ করবে। আসলে পুরো বিষয়টা একটা গুজব হতে পারে।

তিনি বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। মেয়র এবং কাউন্সিলররাও সেখানে ছিলেন। ল্যাম্পপোস্টটিও দেখেছি। আর কারাগারের স্টাফদের আলাদা ড্রেস থাকে, নাম এবং নম্বরও থাকে। আজকাল মোবাইল সবার হাতে হাতে। ছবি তোলা হতো এবং তা দেখে কারাগারের কেউ হলে পরিচয়ও জানা যেতো। ওয়াকওয়েটি ২৪ ঘন্টা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আনাগোনা হয়, তাদের মধ্য থেকে কেউ হযতো অতি উৎসাহী হয়ে কারা কর্তৃপক্ষের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এ জঘন্য কাজটি করে থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মেয়র সাহেবের সাথে আলাপ হয়েছে। আমাদের পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো হবে। আর কারাগারের বাউন্ডারি দেয়াল তৈরির কাজও শুরু হবে খুব তাড়াতাড়ি। কারাকর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ধোপাদিঘীর সৌন্দর্যের সাথে মিল রেখে দেয়াল হবে। কোনো সৌন্দর্যহানী করা হবে না, বরং দেওয়ালটি আরও দৃষ্টিনন্দন করা হবে।
 
উল্লেখ্য, ধোপাদিঘীর পাড় সংলগ্ন কিছু জায়গা কারা কর্তৃপক্ষের আওতাধীন। এই জায়গা নিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশন ও কারা কর্তৃপক্ষের মধ্যে অনেক দিন ধরে টানাটানি চলছে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম