সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দিকে জোর দিচ্ছে। এজন্য তারা ১৭টি বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে নগরবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ পরিচয় দিয়ে মাস্ক বা পিপিই পরে কেউ যাতে বাসায় প্রবেশ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার বিষয়টি রয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশ আইন ২০০৯ এর ২৯ ধারা মতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ১৭ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।


এই ১৭ দফার ৫নং দফায় এসএমপি উল্লেখ করেছে, ‘মাস্ক, পিপিই পরে চুরি, ডাকাতি রোধে পুলিশ পরিচয়ে বা অপরিচিত কাউকে বাসায় প্রবেশ করতে দিবেন না’।

পুলিশ জানিয়েছে, মাস্ক বা পিপিই পরে চেহারা আড়াল করে চুরি বা ডাকাতির ঘটনা ঘটার শঙ্কা রয়েছে। এজন্যই এই ছদ্মবেশে অপরিচিত কেউ যাতে কারো বাসায় ঢুকতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এসএমপির নির্দেশনার মধ্যে আরও গুরুত্বপূর্ণ যেসব বিষয় রয়েছে, সেগুলো হচ্ছে-

*ঈদের জামায়াতে যাওয়ার সময় নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন বহন করার ক্ষেত্রে সর্তক থাকা। জামায়াতে যাওয়ার সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরিধান করা, মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার থেকে বিরত থাকা। বাসা থেকেই ওযু করে মসজিদে যাওয়া।

*করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মসজিদে জামায়াত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করা।

*মোবাইল ফোনভিত্তিক আর্থিক লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান (যেমন: বিকাশ, ইউক্যাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি) ব্যবহার করার ক্ষেত্রে প্রতারকচক্র হতে সতর্ক থাকা।

*মাস্ক, পিপিই পরে চুরি, ডাকাতি রোধে পুলিশ পরিচয়ে বা অপরিচিত কাউকে বাসায় প্রবেশ করতে না দেওয়া।

*কোরবানির পশু সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে এবং ইউনিয়ন এলাকায় উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে জবাই করা। পশু জবাইয়ের বর্জ্য নিদিষ্ট জায়গায় রাখা।

*প্রতিটি পশুর হাটে জাল টাকা সনাক্তকরণে ব্যাংক কর্তৃক স্থাপিত বুথে জাল টাকা সনাক্তকরণ মেশিন দ্বারা টাকা পরীক্ষা করা।

*ট্রাফিক আইন মেনে চলা। যানজট নিরসনে ব্যক্তিগত গাড়ি মসজিদ থেকে দূরে পার্কিংয়ের স্থানে রাখা।

*ঈদ উপলক্ষে বাসাবাড়িতে গৃহকর্মী নিযুক্ত করলে তাদের প্রতি বিশেষ নজর রাখা। বাসা ছেড়ে যাওয়ার আগে ফ্রিজ বন্ধ রাখা। বালতি, গামলা, বদনা ইত্যাদি পানিশূন্য ও উপুড় করে রাখা; যাতে ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার না ঘটে।

*ঈদ উপলক্ষে ছুটিতে গেলে বা বাসা ত্যাগ করলে বাসার দরজা-জানালা সঠিকভাবে তালাবদ্ধ করা, বাসা বা অফিসে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা ব্যবহার করা, দরজায় নিরাপত্তা এলার্মযুক্ত তালা ব্যবহার করা। মহল্লা ও বাড়ির সামনে সন্দেহজনক কাউকে বা দুস্কৃতকারীকে ঘোরাফেরা করতে দেখলে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি ও  থানা পুলিশকে  অবহিত করা।

*জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বাস, ট্রেনে চলাচল না করা।

*পুরুষ ও নারী পকেটমার এবং প্রতারকচক্র হতে সর্তক থাকা। বাস টার্মিনালে, রাস্তায় ও হাটে কোন অপরিচিত ব্যক্তি বা অজ্ঞান পার্টির নিকট থেকে কোনো খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ না করা।

*রাত্রিকালে জনবহুল রাস্তা দিয়ে চলাচল করা। রাস্তায় চলাচলের সময় সঙ্গে থাকা মূল্যবান সামগ্রী বা টাকা সম্পর্কে সাবধানতা অবলম্বন করা। মধ্য কিংবা শেষ রাতে বাসস্ট্যান্ডে নামলে সতর্কতার সাথে চলাচল করা, প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা নেওয়া।

*ট্যাক্সি বা অটোরিক্সা বা ভাড়ায় চালিত অন্যান্য গাড়ি ভাড়া করার সময় গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং ড্রাইভারের নাম, ঠিকানা লিখে রাখা। প্রয়োজনে উক্ত রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও ড্রাইভারের নাম, ঠিকানা নিকটজনের নম্বরে এসএমএস করে রাখা।

*সিএনজি অটোরিক্সায় পূর্ব থেকে অপরিচিত যাত্রী বসা থাকলে তা এড়িয়ে চলা। সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী থেকে সতর্ক থাকা প্রভৃতি।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে