জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে সিলেট জেলার বন্যাকবলিত গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের মধ্যে ত্রাণ ও ঈদসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজ, চিনি, সেমাই ইত্যাদি খাদ্যদ্রব্য দিয়ে প্যাকেট তৈরি করা হয়।

ত্রাণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. ছাদেক মিয়া, দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটু, শাহপরান থানা কমিটির সভাপতি মো. খোকন আহমেদ, সিলেট জেলা প্রেস শ্রমিক ইউনিয়ন এর সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সরকার, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা শাখার সদস্য বদরুল আজাদ, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন এর সহসভাপতি মো. জাকির হোসেন, জালাল মিয়া, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুমিন রাজু প্রমুখ।


ত্রাণ বিতরণে অংশ নিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘এক মাসের ব্যবধানে সিলেট-সুনামগঞ্জের দ্বিতীয় দফা নজিরবিহীন ভয়াবহ বন্যা মানুষের জীবন-জীবিকাকে বিপর্যস্ত করে ফেলছে। আগের বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠার আগেই দ্বিতীয় দফা বন্যায় মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। বন্যার পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও এবং উজানে আসামের বন্যার কারণে সিলেট অঞ্চলের সম্ভাব্য বন্যা সম্পর্কে সরকার ন্যূনতম প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সরকারের অবহেলা কারণে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ঘরবাড়ি, সহায় সম্পদ, গবাদি পশু বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। সরকারের মানুষের জীবন ও জীবিকাকে উপেক্ষা করে তাদের তথাকথিত উন্নয়ন ও উৎসব নিয়ে ব্যস্ত আছে।’

তারা বলেন, ‘সরকারের তথাকিথত উন্নয়ন হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে এসডিজি কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবাধ লুটপাটের মেগা প্রকল্প। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের দফায় দফায় গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেলের মূল্য ও নিত্যপণ্যের অব্যাহত মূল্য বৃদ্ধি করে শ্রমিক, শ্রমজীবী, স্বল্প আয়ের মানুষ ও ব্যাপক জনগণের জীবন ও জীবিকাকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রেই লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি ঘটলেও শ্রমিক-কৃষক-জনগণের আয় বাড়েনি।’

জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট এর আহবানে সাড়া দিয়ে ইতালি প্রবাসী কল্যাণ সংঘ, মাল্টিপার্টি এডভোকেসি ফোরামসহ ব্যক্তি পর্যায়ে যারা বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন, সভা থেকে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/আরআই-কে