রাত অনুমান দেড়টা। বসতবাড়ির নিজ শয়নকক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন এক গৃহবধূ। আর তার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। এই সুযোগে স্বামীর বেশে ঘরে ঢুকে ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন মিরাজুল ইসলাম (২৫) নামের বখাটে যুবক। ঘটনাটি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের বিনোদপুর গ্রামের।

পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার  দুপুরে পর তাকে বগুড়ায় আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে শেরপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমনে আইনে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ।


জানা যায় উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের বিনোদপুর গ্রামের রুবেল আহমদের স্ত্রীকে একই গ্রামের আকালুর মাদকাসক্ত বখাটে ছেলে মিরাজুল ইসলাম উত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারের মাঝে একাধিকবার বৈঠকের মাধ্যমে সমঝোতা করা হয়। এমনকি মান মর্যাদা ও লোকলজ্জার ভয়ে ঘটনাটি গোপন রাখা হয়। একপর্যায়ে বিগত ১০ জুলাই সন্ধ্যায় ওই গৃহবধূর স্বামী শহরে গুরুত্বপূর্ণ কাজের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে ওই গৃহবধূ ঘরের দরজা বন্ধ না করেই আলো নিভিয়ে অন্ধকারে ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর রাত অনুমান দেড়টার দিকে স্বামী বেশে লম্পট মিরাজুল ইসলাম ওই গৃহবধূর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে সন্দেহ হলে ঘরের লাইট জ্বালিয়ে দেখেন লোকটি তার স্বামী নয়, প্রতিবেশী বখাটে মিরাজুল ইসলাম।

এসময় ওই গৃহবধূ চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। কিন্তু এরইমধ্যে মিরাজুল ইসলাম পালিয়ে যায়। পরদিন ঘটনাটি আপোসরফার কথা বলে ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেন প্রভাবশালী গ্রাম্য মাতবররা। সেইসঙ্গে আইনের আশ্রয় নিতেও বাধা দেওয়া হয়। তবে ন্যায় বিচার পেতে ওইসব বাধা উপেক্ষা করেই বুধবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ। মামলার প্রেক্ষিতে রাতেই বিনোদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মিরাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মামলা দায়েরের পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে বগুড়ায় আদালতে পাঠানো হয়েছে ।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে


সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন