সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নারকিলা গ্রামের ইতিহাসে এ বছরই সর্বপ্রথম একটি গরু কোরবানি দেয়া হয়েছে। ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের উদ্যোগে ও ইত্তেফাকের সিলেট প্রতিনিধি আহসান হাবিবের তত্ত্বাবধানে এবং সিলেট প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক সিলেটের ডাক’র সিনিয়র রিপোর্টার কাউসার চৌধুরীর প্রচেষ্টায় নারকিলা গ্রামে এ বছর প্রথমবারের মত গরু কোরবানি করা হয়। এ নিয়ে গ্রামের প্রত্যেক পরিবারের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।

 


জানা যায়, নারকিলা এক সময় দেশে-বিদেশে বহুল আলোচিত ছিল। গ্রামের লোকজনের পেশা ছিল চুরি। এমনকি ভোটার তালিকায় পেশা হিসেবে ‘ ‘চৌর্যবৃত্তি’ লেখা হয়েছিল। পরবর্তীতে সুনামগঞ্জের তৎকালীন জেলা প্রশাসক জাফর সিদ্দিকী তাদেরকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন। ফলে যুগ যুগ ধরে করে আসা পেশা বাদ দিয়ে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। বর্তমানে অনেক পরিবার কৃষি কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। কিন্তু গ্রামটিতে কখনো গরু কোরবানি দেয়া হয়নি। বিষয়টি জানার পর সাংবাদিক কাউসার চৌধুরী ‘এরশাদ-আম্বিয়া ফাউন্ডেশন’ সিলেটের তত্ত্ব¡াবধয়াক সাংবাদিক আহসান হাবিবের সাথে কথা বলেন। উল্লেখ্য, এ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।


নারকিলা গ্রামের লোকজন জানান, গ্রামটি নানাভাবে অবহেলিত ও দরিদ্র্য হওয়ায় এই গ্রামের ইতিহাসে কোনদিন গরু কোরবানি করা হয়নি। ব্যারিস্টার সুমনের অর্থায়নে ও সাংবাদিক কাউসার চৌধুরীর একান্ত প্রচেষ্টায় ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গরু নারকিলা গ্রামের তরুণ সাংবাদিক পাবেল আহমেদের কাছে পৌঁছে দেন। পরে সেই গরু কোরবানি দিয়ে গ্রামের ৬৫টি পরিবারের মধ্যে সমানভাবে মাংস বিতরণ করা হয়। গরুর মাংস পেয়ে প্রত্যেক পরিবারের সদস্য, এমনকি ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাও অনেক আনন্দ প্রকাশ করেন।
নারকিলা গ্রামের পাবেল আহমেদ বলেন, আমরা গ্রামবাসী ব্যারিস্টার সুমনের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ। তাঁর কারণে ভয়াবহ বন্যার মধ্যেও এ বছর আমরা অনেক আনন্দে ঈদ উদযাপন করতে পেরেছি।


গ্রামের আবিদুল মিয়া বলেন, আমরা প্রথমবারের মত কোরবানি করতে পেরে খুবই আনন্দিত। ব্যারিস্টার সুমনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, একবার আমাদের গ্রামে এসে স্বচক্ষে যদি তিনি দেখে যেতেন তাহলে আমরা আরো আনন্দিত হতাম।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইআ