টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে অবশেষে বিদায়ই বললেন বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। আজ রোববার উইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শেষেই তিনি জানিয়েছেন এই সিদ্ধান্ত। এ ছাড়া ওয়ানডে থেকে অবসর নিয়েও নতুন করে মুখ খুলেছেন তিনি।

ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতর ফরম্যাট থেকে অনেক দিন ধরেই দূরে আছেন তামিম। খেলেননি গেল বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়া বিশ্বকাপেও। এরপর জানিয়েছিলেন, অন্তত ছয় মাস দূরে থাকতে চান টি-টোয়েন্টি থেকে। এবার শেষমেশ অবসরের ঘোষণাই দিয়ে বসলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক।


দেশসেরা এই ওপেনার আজ তার ফেসবুক পাতায় জানিয়েছেন এই সিদ্ধান্ত। লিখেছেন, ‘আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আজকে থেকে আমাকে অবসরপ্রাপ্ত হিসেবে বিবেচনা করুন। ধন্যবাদ সবাইকে।’

গত ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) চলাকালীন হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে বিরতির ঘোষণা দেন এই ওপেনার। সেই বিরতির মেয়াদ ছিল ছয় মাস। বিরতি শেষ হওয়ার কথা ছিল আগামী ২৭ জুলাই।

এই ফরম্যাট থেকে ছুটিতে থাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজে চলমান টি-টোয়েন্টি সিরিজে অংশ নেননি বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, উইন্ডিজ সফরে টি-টোয়েন্টি না খেললে আগামী অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলেও সুযোগ পাবেন না তিনি। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার নিয়েই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেই অবসরের এই ঘোষণা দিলেন তামিম।

এর ফলে ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলা টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচটাই হয়ে গেল তামিমের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ২০০৭ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল তামিমের।

এখন পর্যন্ত ৭৮টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ১টি সেঞ্চুরি এবং ৭টি হাফ সেঞ্চুরির সুবাদে ১,৭৫৮ রান করেছেন তামিম। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে ওমানের বিপক্ষে ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ১০৩* রান করেছিলেন এই তারকা ক্রিকেটার।

এদিকে, ঠিক ৩ দিন আগে আরো একটা ঘোষণা দিয়েছিলেন ওয়ানডে দলের অধিনায়ক। ক্যারিবীয় সফরে এক ম্যাচ হাতে রেখে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর প্রেজেন্টেশনে জানান, ২০২৩ বিশ্বকাপ দিয়ে ইতি টানতে পারেন এই ফরম্যাটের। সঙ্গে সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কথাও উল্লেখ করেন।

সে সময় তামিম বলেন, ‘২০২৩ বিশ্বকাপ সম্ভবত আমাদের সবার জন্য সবচেয়ে বড় ইভেন্টের একটি হবে। বিশেষ করে আমাদের চারজনের, (আমি, সাকিব, মুশফিকুর এবং মাহমুদউল্লাহ) যাদের সম্ভবত সেখানেই শেষ হবে (ক্যারিয়ার)। আমাদের সম্ভাব্য সর্বোত্তম সমন্বয় তৈরি করতে হবে এবং দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

এই ঘটনার ৩ দিন পর টি-টোয়েন্টি অবসরের দিন ওয়ানডেতে অবসর নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন তামিম। এবার জানালেন, কথা প্রসঙ্গে বা কথার টানে আগের কথাগুলো এভাবে বলে ফেলেছেন তিনি। ২০২৩ বিশ্বকাপ খেলেই অবসরের ভাবনা নয়, বরং ২০২৩ বিশ্বকাপ তাদের শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। কারণ এই সংস্করণে আরো খেলে যেতে চান তামিম।

তামিম বলেন, ‘একটা জিনিস স্পষ্ট করে দিতে চাই। গত প্রেজেন্টেশনে বলেছিলাম- আমাদের ৪ জনের সম্ভবত ইতি ঘটবে ২০২৩ বিশ্বকাপে। এটা আসলে ‘স্লিপ অব টাং’ ছিল। আমি বলতে চেয়েছিলাম এটা আমাদের ৩ জনের শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। বাকিরা কখন শেষ করবে, কতদিন বলবে এটা তো তাদের ওপর। আমারও ইচ্ছা আছে (আরও খেলার)। অনেক সময় বিতর্ক হয়ে যায়, তাই পরিস্কার করলাম।’

এদিন ২০২৩ ভারত বিশ্বকাপে নিজের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে তামিম বলছিলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ২০২৩ বিশ্বকাপ (জয়), কোনো সন্দেহ নেই। ওই প্রক্রিয়াতেই আমরা আছি। আমি খুব সামনে তাকাতে চাই না। কী হয় না হয়, কে ইনজুরিতে পড়ে, কে না থাকে দলে। কোন কম্বিনেশনে আপনি খেলবেন, গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় না থাকলে আপনি এই কম্বিনেশনে এগোতে পারবেন কি না এসব ধারণা অল্প অল্প আসা শুরু হয়েছে। দল পুরো প্রস্তুত আমি এটা বলব না। তবে আমরা ধারণা পাচ্ছি।’

সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে