সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হিমশিম খাচ্ছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)। জাতীয় গ্রিড লাইন থেকে চাহিদার অর্ধেকও সরবরাহ করা হচ্ছে না বিদ্যুৎ। প্রতিদিন লোডশেডিংয়ের যে শিডিউল করছে বিউবো সেটাও কাজে আসছে না।
প্রতিদিন ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৩ ঘন্টা লোডশেডিংয়ের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ ঘন্টার উপরে। আর গ্রামে তো বিদ্যুতের আলোর ঝলকানি দেখাকে সৌভাগ্য বিবেচনা করছেন গ্রাহকরা। এই অবস্থায় সাশ্রয় তো দূরের কথা বিদ্যুৎ বিলাসে মেতেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। প্রতিদিন অপ্রয়োজনে রাতভর হাজার হাজার বাতি জ্বালিয়ে রাখা হচ্ছে। বৈদ্যুতিক ডিজিটাল সাইনবোর্ডগুলোও জ্বলছে রাতদিন সমানতালে। এ নিয়ে সিসিকের বিদ্যুৎ বিভাগেরও কোন মাথাব্যথা নেই। সংকটময় এই সময়ে সিসিকের এই বিদ্যুৎ বিলাসে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বিউবো সূত্র জানায়, সিলেটে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে প্রায় ২শ’ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সরবরাহ মিলছে অর্ধেকের চেয়ে কম। তাই লোডশেডিংয়ের শিডিউল করেও সেটা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। শিডিউল নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ২-৩ ঘন্টা বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে। গতকাল সোমবার ১৩ ঘন্টার লোডশেডিং ঘোষণা করা হলেও গ্রাহকদের অন্ধকারে থাকতে হয়েছে এর চেয়ে অনেক বেশি সময়। এই অবস্থায় সরকারি কিছু অফিসে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের চেষ্টা করা হলেও বেশিরভাগ অফিস তা আমলে নিচ্ছে না। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন য়েন নিয়মিত বিদুৎ বিলাসিতায় নেমেছে।
রাত ৮টার পর সব ধরণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিলেও প্রতিদিন সন্ধ্যার প্রায় এক ঘন্টা আগেই জ্বলে ওঠছে সিলেট নগরীর সড়কবাতিগুলো। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ উপশহরের ওয়াকওয়েটি এখনো উদ্বোধন না হলেও সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত জ্বলছে বৈদ্যুতিক বাতি। একইভাবে মির্জাজাঙ্গাল ওয়াকওয়ে ও ধোপদিঘীরপাড় ওয়াকওয়েও রাতভর জ্বলছে অসংখ্য বাতি। নগরীতে স্থাপিত ডিজিটাল সাইনবোর্ডগুলোও জ্বলছে রাতদিন সমানতালে। নগরভবনের ভেতরেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের তেমন কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। অথচ সিটি করপোরেশনের কাছে বিউবোর পাওনা পড়ে আছে কয়েক কোটি টাকা। কোটি কোট টাকা বকেয়া বিলের চাপ ঘাড়ে রেখে সংকটময় এই মুহুর্তে সিসিকের এমন খামখেয়ালিপনাকে নগরবাসী বিদ্যুৎবিলাস হিসেবেই দেখছেন।
এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সিটি করপোরেশন বিদ্যুতের অপচয় করে প্রমাণ করছে তারা সরকারি নির্দেশনার ধারধারে না। সিসিকের উচিত নিজেরা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হয়ে নগরবাসীকে সচেতন করা। তা না করে উল্টো আচরণ করা খুবই দুঃখজনক।
এ প্রসঙ্গে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সাধারণ সম্পাদক গৌতম চক্রবর্তী বলেন, ‘বিদ্যুত সংকটের অজুহাত দেখিয়ে সিসিক নগরবাসীকে ঠিকমতো খাবার পানি সরবরাহ করছে না। অথচ তারা বিদ্যুতের অপচয় করে যাচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারনে সারাদিন ব্যবসা করতে না পারলেও রাত ৮টার মধ্যে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারছে না। এই অবস্থায় নগরবাসীকে অন্ধকারে রেখে সিসিকের এমন বিদ্যুৎ বিলাসী কর্মকান্ড মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদেরকে অবশ্যই সংযমী হওয়া উচিত।’
সিসিকের বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন জানান, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য অফিস শুরু ও শেষের সময় নগরভবনের দুটি লিফট চালু রাখা হচ্ছে। বাকি সময় একটি বন্ধ থাকছে। সকল কর্মকর্তাদের বাতি কমিয়ে প্রাকৃতিক আলোতে অফিস করা ও এসি ২৬ ডিগ্রিতে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা না থাকায় সকল সড়ক বাতি জ্বালিয়ে রাখা হচ্ছে। এছাড়া ওয়াকওয়েগুলোর বাতিতে অটো সুইচ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। রাত ১২টার পর ওয়াকওয়ের বাতির সুইচ বন্ধ করে দেয়ারও চিন্তাভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / শাদিআচৌ / ডি.আর




