শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের  শিক্ষার্থী মো. বুলবুল আহমেদের হত্যার ঘটনায় ৪ দফা দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

 


বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা। এসময় উপাচার্যের হাতে স্মারক লিপি পৌঁছে দেন ওই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম আকাশ।

 

শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হল- উচ্চতর তদন্তের মাধ্যমে বুলবুল হত্যায় গ্রেফতারকৃত প্রকৃত খুনিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে; নিহতের পরিবারকে অতিদ্রুত ক্ষতিপূরণ হিসেবে এককালীন ৫০ লক্ষ টাকা এবং আগামী ১২ বছর পর্যন্ত প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করতে হবে অথবা এককালীন ৫০ লক্ষ টাকা এবং তার পরিবারের ১ জন সদস্যের চাকুরী নিশ্চিত করতে হবে; ক্যাম্পাসের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো সচল এবং সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে, অনিরাপদ এবং অন্ধকারচ্ছন্ন স্থানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে হবে, ক্যাম্পাসের টিলাগুলোতে নিরাপত্তা প্রহরীর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে এবং প্রাচীর সংলগ্ন স্থানে কাটাতারের ব্যবস্থা করতে হবে ; এবং বুলবুলের স্মৃতি রক্ষার্থে বুলবুল হত্যার স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও বুলবুল চক্কর ঘোষনা করতে হবে, একইসাথে ২৫ জুলাইকে বুলবুল হত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।

 

স্মারকলিপি প্রদান শেষে আশরাফুল সাংবাদিকদেরকে বলেন, উপাচার্য বরাবর আমরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেছি। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন দাবিগুলো পূরণ করা হবে। বুলবুল হত্যার খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হবে। ক্ষতিপূরণের বিষয়ে তার পরিবারকে এক সপ্তাহের মধ্যে ডাকবেন এবং শিক্ষার্থীদের দাবির দিকে লক্ষ্য রেখে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

আশরাফুল আরও বলেন, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার বিষয়ে উপাচার্য আমাদের জানান ক্যাম্পাসে লাইটিং, সিসিটিভি ক্যামেরা সচল ও নিরাপত্তা প্রহরী বাড়ানোর বিষয়ে ইতোমধ্যে একটা বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। খুব দ্রুত এ দাবি পূরণ করা হবে। বুলবুল হত্যার জায়গায় ‘স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ ও ‘বুলবুল চত্বর’ ঘোষণা এবং ২৫ জুলাই বুলবুল হত্যা দিবস ঘোষণার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় বিষয়গুলো উত্থাপন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপাচার্যের কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন- লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনীম, অধ্যাপক ড. ফাতেমা খাতুন, অধ্যাপক ড. আশরাফ সিদ্দিকী, অধ্যাপক ড. ইসমত আরা, সহযোগী অধ্যাপক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল হোসাইনী, সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সহকারী অধ্যাপক মো. মাহমুদ হাসান, সহকারী অধ্যাপক কানিজ ফাতেমা, সহকারী অধ্যাপক সাবিনা ইয়াসমিন, সহকারী অধ্যাপক মোস্তফা কামাল, সহকারী অধ্যাপক জুবায়দা গুলশান আরা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইমামুল হোসেন হৃদয়, আশরাফুল আলম আকাশ, মিলন মাহমুদ, নাঈম আহমেদ, হাবিব এবং রাকিব প্রমূখ।

 

প্রসঙ্গত, গত ২৫ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নিজ ক্যাম্পাসে গাজী কালুর টিলায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে বুলবুল নিহত হন বলে পুলিশ জানায়। বুলবুল হত্যার প্রতিবাদে ও দোষীদের বিচার দাবিতে  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। এ পর্যন্ত ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় আদালতে ১৬৪ ধরায় জবানবন্দি দিয়েছে প্রথম গ্রেপ্তার হওয়া আসামি আবুল (১৯)। আদালত জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করে ওই সময় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। বাকি দুই আসামিকে সিলেট মেট্রেপলিটন পুলিশের জালালাবাদ থানায় রাখা হয়েছে।

 

তারা হলেন- সিলেট এয়ারপোর্ট থানাধীন টিলারগাঁওয়ের মো. গোলাব আহমেদের ছেলে কামরুল আহমদ (২৯), মৃত তছির আলীর ছেলে মো. হাসান (১৯)। তাদেরকে বৃহস্পতিবার দুপুরে (২৮ জুলাই) হাকিম আদালতে তোলা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/এনএম/এসডি-০২