সিলেটের ওসমানীনগরে ‘রহস্যজনকভাবে’ যুক্তরাজ্য প্রবাসী পিতা ও পুত্রের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
তবে বাসার ভেতর যুক্তরাজ্য প্রবাসী পরিবারের সকল সদস্য অচেতন হওয়া এবং দুইজনের মৃত্যুর রহস্য বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) বিকাল পর্যন্ত উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে, মারা যাওয়া যুক্তরাজ্য রফিকুল ইসলাম ও তার ছেলে মাইকুল ইসলামের জানাজা বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ২টায় ওসমানীনগরের দয়ামীর পারকুল মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী ও ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান চৌধুরী নাজলুসহ এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে ধিরারাই খাতুপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাদেরকে দাফন করা হয়। প্রবাসী পিতা-পুত্রের মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসমানীনগর থানার ওসি এস এম মাঈন উদ্দীন।
এদিকে, সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন মারা যাওয়া যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম, ছেলে সাদিকুল ইসলাম ও মেয়ে সামিরা ইসলাম এখনো অসুস্থতার সাথে লড়ছেন। হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. আবদুল গাফ্ফার জানান, মা ও ছেলের জ্ঞান ফিরেছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। তবে এখনো শঙ্কামুক্ত নন মেয়ে সামিরা।
ঘটনার তিনদিন পার হলেও এখনো কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার পর বাসায় থাকা কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেও যুক্তরাজ্য প্রবাসী পরিবারটি পাঁচ সদস্য একসাথে অচেতন হয়ে পড়া এবং দুইজনের মৃত্যুর কোনো কারণ সনাক্ত করতে পারেনি। তাই মারা যাওয়া দুইজনের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও অসুস্থদের সুস্থতার অপেক্ষায় আছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে। আর অসুস্থরা সুস্থ হলে জানা যাবে সেদিন বাসায় কী ঘটেছিল? এরপর সকল তথ্য উপাত্ত মিলিয়ে ঘটনার রহস্যভেদ করা যাবে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ জুলাই রফিকুল ইসলাম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেন। এরপর ঢাকায় একসপ্তাহ থেকে গত ১৮ জুলাই তাজপুর স্কুল রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন । সোমবার রাতের খাবার খেয়ে স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েদের নিয়ে বাসার একটি কক্ষে রফিকুল এবং অপর দুটি কক্ষে শ্বশুর, শাশুড়ি, শ্যালক, শ্যালকের স্ত্রী ও শ্যালকের মেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে বাসার অন্যান্য কক্ষে থাকা আত্মীয়রা ডাকাডাকি করে রফিকুলদের কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে ‘৯৯৯’ নাম্বারে ফোন দেন। খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে ওসমানীনগর থানাপুলিশের একটি দল গিয়ে দরজা ভেঙ্গে অচেতন অবস্থায় পাঁচ যুক্তরাজ্য প্রবাসীকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা রফিকুল ইসলাম ও মাইকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাকি তিনজনকে হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / শাদিআচৌ / ডি.আর




