মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর মো. উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে ভোটার তালিকায় ফের অভিভাবকের নাম ভুল রেখে নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা।

 


এ ঘটনায় রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন- বিদ্যালয়ের অভিভাবক মোহাম্মদ নূরুল মোহাইমীন। পূর্বে এ ভাবে নাম ভূল নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। পরে নাম সংশোধন করে পরবর্তীতে নির্বাচন দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে আদালত।

 

অভিভাবকের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে ২৮ জুলাই চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে তফসিল ঘোষনা করা হয়েছে। অত্র বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীর ছাত্রীর অভিভাবক মোহাম্মদ নূরুল মোহাইমীনের ভোটার কার্ডসহ সকল কাগজপত্রে লিপিবদ্ধ রয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকার ৪৮৯ নম্বর ক্রমিকে ‘মো. নুরুল’ নামে অসম্পূর্ণ ও ভুলভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

 

গত ৩ জুলাই হতে ১৯ জুলাই পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন ও ঈদের ছুটি থাকার সময়ে গত ১৮ জুলাই বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনের তফশীল ঘোষণা করেন। তফশীল মোতাবেক আগামী ৮ আগষ্ট নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

 

ভোটার তালিকায় নামের ভুলের কারণে ২০২০ সনের ১৬ ফেব্রুয়ারী জনৈক অভিভাবক কমলগঞ্জ সহকারি জজ আদালত, মৌলভীবাজারে মামলা দায়ের করেন। আদালত পর্যালোচনার পর আদেশ প্রদান করেন যে, আগামী ১০ মার্চ ২০২০ইং পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত করা হল। এই তারিখের মধ্যে ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরী করে পরবর্তী ২৫ মার্চ ২০২০ইং তারিখ এই ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার উভয়পক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশনার পরও সঠিক সময়ে নির্বাচন সম্পন্ন না করে পুনরায় ভূল ও অসম্পূর্ণ নাম দিয়ে চুড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরি করা হয়।

 

বিদ্যালয়ের অভিভাবক মোহাম্মদ নূরুল মোহাইমীন বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কয়েক মাস পূর্বে শিক্ষার্থীর মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ভুল নাম দিয়ে ভোটার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে মৌখিক অভিযোগ দিলেও নির্বাচনের পূর্বে নাম সংশোধনের কোন আশ্বাস না পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

 

অভিযোগ বিষয়ে মো. উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, ওই অভিভাবককে বলেছি ইউএনও স্যারের সাথে আলোচনাক্রমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও প্রিসাইডিং অফিসার শামসুন্নাহার পারভীন বলেন, অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছি। ইউএনও মহোদয় যে নির্দেশনা দিবেন সে মোতাবেকই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

 

এব্যাপারে পজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত উদ্দীন লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/জেএ/এসডি-০৮