ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের চাকরির জন্য তদবিরের সুযোগ চেয়ে আলোচনায় থাকা সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন এই ছাত্র সংগঠনটির সাবেক ও বর্তমান নেতারা।
তারা বলছেন, চাকরির ক্ষেত্রে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তদবির প্রত্যাশা করে না। তারা অনেক মেধাবী, দক্ষ। সরকারি চাকরিতে তাদের কোনো সুযোগ বা তদবিরের দরকার হয় না। মেধা ও দক্ষতার গুণে সকল ক্ষেত্রে তারা এগিয়ে যাচ্ছে।
গত ২৮ জুলাই পুলিশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের চাকরির জন্য তদবিরের সুযোগ চেয়ে বেশ আলোচনার মুখে পড়েছেন মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন।
মৌলভীবাজারের একটি অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জন্য তদবিরের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনূর্ধ্ব জানান জোহরা আলাউদ্দিন। একইদিন রাতে বলেন, ‘পুলিশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের চাকরির তদবির নিশ্চিত করেই ছাড়বো।’
এ বিষয়টি সংসদে তুলবেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
জোহরা আলাউদ্দিনের এমন দাবির বিষয়ে সাবেক ও বর্তমান পদধারী ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে কথা হয় দেশের একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের। তারা কেউই জোহরা আলাউদ্দিনের বক্তব্য সমর্থন করছেন না।
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘ছাত্রলীগ মেধাবীদের সংগঠন। এই সংগঠন শিক্ষিত লোকের সংগঠন। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আদর্শকে ধারণ করে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ জাতি সমাজ গঠনে ভূমিকা রেখে চলছে। চাকরি ক্ষেত্রে ছাত্রলীগ তাদের মেধা দক্ষতা,দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।’
শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী সারোয়ার হোসেন বাবু বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অনেক মেধাবী। তারা নিরলসভাবে দেশ জাতি গঠনে ভূমিকা রেখে চলছেন। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের শিক্ষার দক্ষতার গুণে এগিয়ে যাচ্ছে।’
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফাহাদ হোসেন তপু বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সৎ ও দক্ষ। দেশকে এগিয়ে নিতে মেধাবী রাজনীতিবিদ দরকার। বিশেষ করে মেধাবী নেতাকর্মীদের প্রতি সুদৃষ্টি দিলে ভালো হয়।’
ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সোহান খান বলেন, ‘সরকারি চাকরির সঙ্গে ছাত্ররাজনীতি সম্পৃক্ত নয়। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে একজন ছাত্র তিনি যেকোনো চাকরিতে আবেদন করতে পারবেন।’
‘ছাত্র রাজনীতি করলে ভালো চাকরি পাবে, না হয় ভালো চাকরি বা সরকারি চাকরি পাবে না- এমন কিছু বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আদর্শ থেকে ছাত্রলীগ শিক্ষা পায়নি। তবে কোনো ছাত্র যদি চাকরির পরীক্ষায় রিটেন পাস করেন সেক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্য সুপারিশ করতেও পারেন। এমন সুপারিশ অতীতেও ছিলো, এখনো আছে।’
ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার শুধু সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে নয় সকল ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতা নিশ্চিত করেছেন। আদর্শিক কারণে আমরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অনেক ত্যাগ, তিতিক্ষা করে দেশের জন্য রাজনীতি করি। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কোনো অগ্রাধিকার বা তদবিরের আশা করে না।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ঢাটা/জেপি




