সিলেটভিউ’র কুলাউড়া উপজেলার নিজস্ব প্রতিবেদক শাকির আহমেদের চলে যাওয়ার এক বছর। গত বছরের এই দিনে (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসজনিত কারণে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে শাকিরকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হাসপাতালে আসার পর কর্তব্যরত ডাক্তার শাকিরকে মৃত ঘোষণা করেন। 

শাকির মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের মোল্লাবাড়ির মৃত আব্দুস শহিদের ছেলে। মৃত্যুকালে শাকিরের বয়স ছিলো ৩২। তিনি মা, এক শিশুসন্তান ও স্ত্রীসহ আত্মীয়-স্বজন রেখে যান। 


পরদিন (৭ আগস্ট) বাদ জোহর উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের মাধবপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে শাকিরের বাবার কবরের পাশেই তাঁকে দাফন করা হয়।

শাকিরের চলে যাওয়ার শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি পরিবার। 

২০১২ সালে সাপ্তাহিক সীমান্তের ডাক পত্রিকার ম্যাধমে সাংবাদিকতা শুরু করেন শাকির। এরপর তিনি বিভিন্ন সময় জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকায় সুনামের সঙ্গে কাজ করেন। মৃত্যুর আগে তিনি সিলেটের শীর্ষ জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল ‘সিলেটভিউ২৪’র কুলাউড়া উপজেলার নিজস্ব প্রতিবেদক ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ‘নয়া শতাব্দি’র মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

শাকির ছিলেন প্রতিভাবান ও প্রতিশ্রুতিশীল এক সাংবাদিক। এক স্বপ্নচারী তরুণ। সদা হাস্যজ্জ্বল টগবগে শাকিরের সুসম্পর্ক ছিলো কুলাউড়া উপজেলার দল-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি--পেশার মানুষের সঙ্গে। সেটার অত্যুজ্জ্বল স্বাক্ষর শাকিরের জানাযাপূর্ব সময়। সকল রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা সেদিন সেখানে উপস্থিত হন। 
 
সেদিন জানাযার নামাজের আগে স্থানীয় বরমচালের মাধবপুর জামে মসজিদে শাকিরের জীবনচরিত নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সকল বক্তা। সবারই কথা- শাকিরের চলে যাওয়া হৃদয় বিদীর্ণ করা কষ্টের, অবর্ণনীয় যন্ত্রণার। চলার পথে শাকির কারো সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন- এমন কোনো নজির নেই। মানুষের জন্য কিছু করতে পারাটা ছিলো তাঁর  নেশা।

শাকিরের মৃত্যুর এক বছর আগে মারা যান তার বাবা। পরিবারের বড় সন্তান ছিলেন শাকির। মা, ৩ ভাই, স্ত্রী ও একমাত্র শিশুসন্তানকে নিয়েই ছিলো তাঁর দিনাতিপাত। দিনভর ছুটতেন খবরের পেছনে। নিউজের ভাঁজে গেঁথে থাকতো শাকিরের প্রতিভা আর মেধার বিচ্ছুরণ।

৫ বছরের একমাত্র ছেলেসন্তান গুঞ্জরকে নিয়ে ছিলো তাঁর এক আলাদা পৃথিবী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শাকিরের বেশিরভাগ পোস্টের মধ্যে থাকতো বাবা-ছেলের খুনসুটির ছবি। বাবা নেই, তাই নিষ্পাপ গুঞ্জরের পুরো পৃথিবীতে গত এক বছর ধরে বিশাল শূন্যতা বিরাজমান। যার কাঁধে ভর করে ভোরের আলো ফুটতো শিশু গুঞ্জরের আকাশে, যার সঙ্গে খুনসুটিতে জোনাকিভরা সন্ধ্যা নামতো তার আঙ্গিনায়- গত বছরের ৬ আগস্ট সন্ধ্যারাতে সেই নির্ভরতার বটবৃক্ষ গুঞ্জরের জীবন থেকে হারিয়ে গেছে চিরতরে। 

সেদিন বাবার মরদেহ যখন বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো, তখন গুঞ্জরের চোখ-মুখ ছিলো ভাবলেশহীন। মামার কোলে থাকা গুঞ্জর সেদিন ছিলো অধিক শোকে পাথর।

গত একটি বছর ধরে প্রতিটি দিন হয়তো তার চলে যায় কোলাহলে, কিন্তু বাবাহীন প্রতি রাতে নিশ্চয় শূণ্য বিছানা হাতড়ে শাকিরকে খুঁজে ফেরে গুঞ্জরের কোমল দু’টি হাত।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম