২১ শে আগস্টের কথা সবাই জানি। কিন্তু এটা ভুলে যাই ৭ আগস্ট ২০০৪ সালে সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সভায় গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় সমাবেশ হচ্ছিল, সেই সমাবেশে নেত্রী (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা) এঁর উপর গ্রেনেড হামলা করা হয়। এ তো ১৮ বছর আগের কথা। অনেকেই ভুলতে বসেছেন, অনেকেই ভুলে গেছেন। কিন্তু আমি ভুলতে পারি না এবং ভুলার কোনো প্রশ্নই উঠে না। স্মৃতি যত জীবন কাজ করবে তত জীবন এটা মাথায় থাকবে। মনে হলেই শরীরের লোম খাড়া হয়ে যায়।
তখনকার সময়ে সিলেটের অভিজাত হোটেলগুলোর মাঝে একটি ছিল হোটেল গুলশান। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা, সিলেটের তুখোড় ও গণ্যমান্য সব নেতাদের নিয়ে গুলশান হোটেলে চলছিল সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভা। তখনই আচমকা জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলায় বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে হোটেল গুলশান। শুরু হয় মানুষের আর্তনাদ ও ছোটাছুটি।
মারা যান ইব্রাহিম চাচা, গুরুতর আহত হন আমার বাবা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও সিলেট জেলার জিপি (প্রধান সরকারী কৌসুলি) অ্যাডভোকেট মো. রাজ উদ্দিন। সিলেট জুড়ে নেমে আসে শোক। সেই ছোট্ট আমি আজ বড় হয়েছি, হামলা পরবর্তী সেই ভয়াবহতা আজও আমার চোখের সামনে ভাসে।আজও প্রতিটি মুহূর্ত আমার মনে পড়ে।
আল্লাহ’র অশেষ রহমতে আব্বু এখন সুস্থ আছেন।এত বড় হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পরও একজন মুজিব সৈনিক হিসেবে আজ অবধি তিনি নিষ্ঠার সাথে দেশ ও দলের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাচ্ছেন।
একজন সন্তান হিসেবে আমি গর্বিত, রাজনৈতিক জীবনে চলার পথে আমি প্রেরণা ও উৎসাহ পাই বাবার জীবন থেকে। বাঁধা আসবেই জীবনে, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে, জঙ্গি এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে যেতে হবে এভাবেই শক্ত হাতে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে।
লেখক- ছাত্রলীগ নেতা, সিলেট মহানগর।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/জেপি




