সিলেটের গোলাপগঞ্জে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়ে প্রবাসী পরিবারের মা ও ছেলেকে পিঠিয়ে গুরুত্বর আহত করার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। 


উপজেলার পূর্ব আমকুনা গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের স্ত্রী রেহানা বেগম বাদি হয়ে একই গ্রামের আব্দুল শহিদের পুত্র ইন্তাজ উদ্দিন, নাদিম উদ্দিন, মৃত আলা উদ্দিনের পুত্র খয়রুল ইসলাম, সয়ফুল ইসলাম, নাসির উদ্দিনের পুত্র মিজানুর রহমানকে অভিযুক্ত করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। 



সংশ্লিষ্ট আদালতের আদেশের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার মামলাটি রুজু করে গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ।  


স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়- উপজেলার আমকুনা গ্রামে ইসলাম উদ্দিন দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ থাকায় এবং তার ছেলেরা প্রবাসে থাকায় তার মালিকানাধীন ভূমির উপর কু-নজর পরে একই গ্রামের ভূমিখেকো ইন্তাজ উদ্দিন ও তার সহযোগীদের। ভূমি দখলের পায়তারায় প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের নানা ভাবে হয়রানীসহ নির্যাতন অব্যাহত রাখে তারা। গত ১২ আগস্ট সকালে ইন্তাজ উদ্দিন ও তার সহযোগীরা দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভূমি দখলের চেষ্টা চালালে সুহেল আহমদ তাদের বাধা দেয়ার পাশাপাশি থানা পুলিশকে খবর দিলে ইন্তাজ উদ্দিন ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। নিজেদের ক্ষেত খামার দেখাশুনা করে ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে সুহেল আহমদ বাড়ি ফেরার পথে বাড়ির পাশে পূর্ব থেকে উৎ পেতে থাকে ইন্তাজসহ তাদের সহযোগীরা সন্ত্রাসী কায়দায় হাতে থাকা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সোহেলের উপর ঝাপিয়ে পরে। এসময় সুহেল আহমদের সুর চিৎকারে তার মা রেহানা বেগম এগিয়ে আসলে ছেলের সামনে মায়ের শ্লীলতাহানিসহ মারপিট শুরু করে।পরবর্তীতে স্থানীয়রা আহত মা ও ছেলেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। 


ভুক্তভোগী রেহানা বেগম বলেন- ইন্তাজ, খয়রুর, ছয়ফুল, শহিদ, মিজানুর একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র। এলাকায় এমন কোনো অপরাধ ও কু-কর্ম নেই যে তারা জড়িত নয়। প্রাণের ভয়ে তাদের এসব কার্যক্রমের প্রতিবাদ করতে কেউ সাহস পায় না। আমার ছেলেরা প্রবাসে থাকার সুবাদে আমাদের জায়গা জোরপূর্বক দখল নেয়ার পায়তারায় আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানী করছে সন্ত্রাসী ইনন্তাজসহ তাদের সহযোগীরা।


মামলা দায়েরের পর থেকে তারা প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে আমার দেশে থাকা ক্যান্সার আক্রান্ত ছেলে ও প্রতিবন্ধী ছেলেসহ পরিবারের সদস্যদের প্রাণে হত্যার হুমকিসহ মিথ্যা মামলায় জেল খাটানো হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। ইন্তাজসহ তার সহযোগীদের ক্রমাগত হুমকিতে আমি পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি।


মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোলাপগঞ্জ মডেল থানার এসআই জাহাঙ্গীর বলেন, আসামীদের গ্রেফতারের বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বাদিকে হুমকিসহ চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ফেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/সাদিআচৌ/জেপি