সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত ওসমানীনগর বিএনপির সাবেক আহবায়ক কমিটির সদস্যকে কারণ দর্শনোর নোটিশকে ঘিরে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনে নানা আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টির হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে বিএনপির মতো একটি বড় দলের জেলার দ্বায়িত্বশীলরা দলীয় নিয়ম শৃঙ্খলার বাহিরে গিয়ে প্রভাবিত হয়ে মনগড়াভাবে ভুলভ্রান্তিপূর্ন শোকজ নোটিশ করায় দলের তৃণমূলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। নোটিশটি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের একটি গোষ্টির এজন্টা বাস্থবায়নের প্রচেষ্ঠায় দলীয় নীতি আর্দশের পরিপ্রন্থি কার্যকলাপ বলে বন্তব্য করছেন উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতারা।
জানা যায়, গত ১০ আগষ্ট সৈয়দ এনামুল হক এনাম পীর ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপি বরাবরে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রেরণ করেন সিলেটে জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। প্রেরিত ওই কারণ দর্শানোর নোটিশে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারী অনুষ্টিত হওয়া উপজেলা বিএনপির সম্মেলনের দিন তারিখ পাল্টিয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারী উপজেলা বিএনপির সম্মেলন হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সম্মেলনের দিন দলের গঠনতন্ত্র ও শৃংখলা পরিপন্তি অভিযোগে আনা হয় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সৈয়দ এনামুল হক পরি এনামের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে, কালো টাকার ছড়াছড়ি ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে একটি গোষ্টির এজেন্টা বাস্থবায়নে গঠিত উপজেলা বিএনপি বর্তমান কমিটিতে সৈয়দ এনামুল হক এনাম পীর কোন পদে না থাকলেও জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক প্রেরিতে শোকজ নোটিশে সৈয়দ এনামুল হক এনাম পীর নামের পাশে পদবী হিসাবে ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপি লেখা হয়েছে। ১৬ আগস্ট ডাকা যোগে জেলা বিএনপির কারন দর্শানোর নোটিশ পেয়ে ১৭ আগস্ট নোটিশের জাবাব দিলেও বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপি একাধিক নেতারা অভিযোগ করে বলেন,শহিদ জিয়ার নীতি আদর্শ ভুলে দলের চেয়ারপার্সন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দের্শনার বাহিরে গিয়ে একটি গোষ্টির ব্যক্তিগত স্বার্থ হাছিলে টাকার বিনিময়ে নির্বাচনের নামে প্রহসন করে উপজেলা বিএনপির কমিটি ঘোষনা করায় দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের কাছে অভিযোগসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিবাদ অব্যহত রেখেছেন। উপজেলা বিএনপির ওই কমিটিতে ১৫ জন প্রবাসী দেশে না থাকা অবস্থায় উপজেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ন পদে স্থান দেয়া হয়েছে। উজেলায় বিএনপির প্রকৃত নেতা-কর্মীদের কমিটিতে স্থান না দিয়ে টাকার বিনিময়ে হাইব্রিডদের স্থান দেয়া হয়েছে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদকের প্রেরিত শোকজ নোটিশই তার প্রমান। জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শোকজপত্রে এত বড় ভূল করতেই পারেন না। টাকার বিনিময়ে সম্মেলন হওয়ার কারণে জৈনেক্য হাইব্রিড বিএনপি ওয়ালাদের কথামতো এই শোকজপত্র পাঠানো হয়েছে। যদি জেলা বিএনপি নিজেদের দায়িত্বে ওই শোকজপত্র পাঠাতেন তাহলে কোন তারিখে একটি উপজেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে তা অন্তত দায়িত্বশীলদের জানার কথা। এসব দলের স্বার্থ নয় একটি গোষ্টি বা হাইব্রিডদের এজেন্টা বাস্থবায়ন।
এ বিষয়ে সৈয়দ এনামুল হক এনাম পীর বলেন, আমি উপজেলা বিএনপির কোনো পদ পদবিতে না থাকলেও জেলা বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদকের প্রেরেতি নোটিশে আমার নামের পাশে ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপি লিখা হয়েছে। এছাড়া ২৫ ফেব্রুয়ারী ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে দাবি করে আমার বিরুদ্ধে দলীয় নিয়ম শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার অভিযোগ আনা হলেও গঠনতন্ত্র বিরোধী ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজের সংঘঠিত দলের গঠনতন্ত্রের কোন ধারা উপধারা বা অনুচ্ছেদ তার কোন কিছু প্রেরিত ওই নোটিশে উল্যেখ করেন নাই। বিগত ২৮ ফেব্রুয়ারী ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সম্মেলন পরবর্তী যে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় তা সম্পর্ন দলের গঠনতন্ত্র এবং বিএনপির সর্বচ্ছ পর্যায়ের নীতি নির্ধারণী কর্তৃপক্ষের নির্দেশিত মতামতের বাহিরে গিয়ে মনগড়াভাবে করা হয়েছে। ফলে কাউন্সিলকে সাজানো প্রহসনের কাউন্সিল দাবি করছেন অধিকাংশ কাউন্সিলররা। এ বিষয়ে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স, প্রিন্ট ও অনলাইন গনমাধ্যমে ধারাবাহিক ভাবে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। এরপরও আমি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকে সম্মান জানিয়ে প্রেরিত নোটিশের জবাব দেয়ার পাশাপাশি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহোদয়সহ হাইকমান্ডের অনান্য দ্বায়িত্বশীলদের অনুলিপি প্রেরণ করেছি। সার্বিক বিষয়ে আমি দলের কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারকদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এই বিষয়ে জানতে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ হলে তিনি এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত বলবেন জানালেও পরবর্তীতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/রনিক/এসডি-০৩




