আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়নের একটা অংশ পদ্মা সেতু। তা দেখেই কাত হয়ে গেছে বিএনপি। বুকে ব্যথা বেড়ে গেছে। তিনি বিএনপির প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, সামনে বিএনপি মেট্রোরেল, কর্ণফুলি টানেলসহ আরও উন্নয়ন দেখবে তখন বুকের ব্যথা সামলাবে কীভাবে।

 


বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। আলোচনা সভার আয়োজন করে স্বাধীন চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তারা মানুষের আলাদাতে থেকে বেঁচে গেলেও নিয়তির আদালত, ইতিহাসের আদালত থেকে ক্ষমা পায়নি। তাদের কারও স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে বিদেশে কে পাঠিয়েছে? কে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে? জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে জড়িত। তিনিই হত্যাকরীদের বিদেশে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন। শুধু তাই নয়, তাদেরকে বিদেশে দূতাবাসে চাকরিও দিয়েছেন। ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত জিয়াউর রহমান আর ২১ আগস্ট হত্যার কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত জিয়াউর রহমান স্ত্রী খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, একটি রাজনৈতিক পরিবার যার নামে ইতিহাসের দরজা খুলে যায় সেটা বঙ্গবন্ধুর পরিবার৷ এই পরিবারের সঙ্গে কীভাবে আপনারা (বিএনপি) বিশ্বাসঘাতকতা করলেন। আর এই দলের (বিএনপির) সঙ্গে কীভাবে আমরা সমঝোতা করব। খালেদা জিয়ার ছেলে মারা যাওয়ার পরে শেখ হাসিনা দেখতে গিয়েছিলন। কিন্তু তার মুখের উপরে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল। তারপর শেখ হাসিনা সেই দলের নেত্রী খালেদা জিয়া গণভবনে আমন্ত্রণ করেছিল। কিন্তু তিনি ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করলেন। তারপরেও শেখ হাসিনা স্যাক্রিফাইস করেছেন।

 

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা আছেন বলেই বাংলাদেশ আলোকিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর হাতে স্বাধীনতা হয়েছে আর শেখ হাসিনার হাত ধরে অর্থনীতির মুক্তি হয়েছে। শেখ হাসিনা নেতৃত্বে পদ্মাসেতু হয়েছে এতেই বিএনপি কাত হয়ে গেছে।

শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে হটানোর জন্য ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, জনগণ আমাদের ক্ষমতার উৎস। জনগণ আমাদের ভোট না দিলে আমরা ক্ষমতা আসব না। কিন্তু কারো কথায় সরকার পরিবর্তন হবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের উপরে বিশ্বাস আস্থা রাখুন। শেখ হাসিনা আপনাদের পাশে আছে।

বিশ্ব পরিস্থিতি খারাপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতি খারাপ তারপরও মানুষ কষ্ট হচ্ছে আওয়ামী লীগ পরিস্থিতি বুঝে। শেখ হাসিনা মানুষের কষ্ট বুঝেন। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হবে না, পাকিস্তান হবে না, স্বাধীন বাংলাদেশ, স্বাধীন হবে। তারপরও বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে।

ওবায়দুল কাদের বিএনপি নেতাদের উদ্দশে আরো বলেন, সরকারের পরিবর্তন যদি চান তাহলে নির্বাচনে আসুক। নির্বাচন ছাড়া সরকারের পরিবর্তনের কোনো পদ নেই। ইভিএম পদ্ধতি হলো আধুনিক পদ্ধতি। আমরা জালিয়াতি, কারচুপির, সিল মারা মার্কা ভোট চাই না। জালিয়াতিরাই ইভিএম পদ্ধতি ভোট চায়। বিএনপি যদি তত্বাবধায়ক সরকার চায় তাহলে নির্বাচন কমিশনের সংলাপে গিয়ে কথা বলেন না কেনো, কেনো গেলেন না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার উচ্চ আদালতে থেকে বাদ করা হয়েছে। নির্বাচনে বিএনপি আসবে। বিএনপির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে নির্বাচনে আসতে হবে।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ নাজাত-১০


সূত্র : ঢাকা টাইমস