চা শ্রমিকদের ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে চলমান আন্দোলনকে বেগমান করতে এবং বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রত্যাখ্যান করে চা শ্রমিকের অধিকার আদায়ে ‘চা শ্রমিক অধিকার পরিষদ’ নামে নতুন সংগঠন আত্মপ্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফিনলে টি কোম্পানির কালিঘাট চা বাগানে দূর্গামন্দিরে আলোচনা সভা করেছে এই সংগঠনটি। নতুন সংগঠনে পঞ্চায়েত নেতা ও তরুণ যুবকদের অগ্রাধিকার দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।
আলোচনা সভায় কালিঘাট চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি অভান তাঁতীর নেতৃত্বে জেরিন চা বাগান, গান্ধীছড়া চা বাগান, হুগলি ছড়া চা বাগান, আমরাইল ছড়া চা বাগান, ভুরভুরিয়া চা বাগান, ভাড়াউড়া চা বাগান, জাগছড়া চা বাগান, খাই ছড়া চা বাগান, লস্করপুর চা বাগান, রাজঘাট চা বাগান, খেজুরি চা বাগান, লাখাই চা বাগান, বিভিন্ন চা বাগানের একাংশের সহস্রাধিক শ্রমিকেরা অংশ নেন।
আলোচনা সভায় বলেন, দাবি আদায়ের আন্দোলনকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য জনপ্রতিনিধি, বাগানের মালিক ও সরকারি কর্মকর্তারা উঠে পড়ে লেগেছে। বাগানের সাধারণ শ্রমিকেরা কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের কথা প্রত্যাখ্যান করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতারা তাঁদের আন্দোলন বন্ধ করতে বলছে। আমরা আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাবো। আর আমাদের আন্দোলন সঠিকভাবে পরিচালনা স্বার্থে ‘চা শ্রমিক অধিকার পরিষদ’ নামে একটি কমিটি গঠন করতে চাচ্ছি। বাগান পঞ্চায়েত, চা শ্রমিক তরুণদের সমন্বয়ে কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে।
চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা বলেন, নতুন এই সংগঠনের বিষয়ে আমরা অবগত নয়।
এ দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সবকটি চা বাগানে কাজ বন্ধ রয়েছে। খেজুরি ছড়া চা বাগানে শিক্ষার্থীরা শ্রমিকদের মজুরি ৩০০ টাকা করার দাবিতে দুই ঘণ্টা ক্লাস বর্জন করে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে।
খেজুরিছড়া চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মহেশ্বর দাস বলেন, ‘আমরা পঞ্চায়েত কমিটিও কোন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের মানছি না। এখন শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটি, জনপ্রতিনিধি বা সরকারি কর্মকর্তারা সবাই এক হয়ে আমাদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে বানচাল করার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী নিজ মুখে সিদ্ধান্ত দিলেই আমরা কাজে যাবো। এখন ঘোষণার অপেক্ষায় আছি।’
প্রসঙ্গত, গত ৯ আগস্ট থেকে চার দিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি ও পরে ১৩ আগস্ট থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট পালন করছেন চ শ্রমিকেরা। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটি ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেও সেটা মানছেন না সাধারণ চা শ্রমিকেরা। বাগানে বাগানে ঘুরে শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/সাইফুল/এসডি-২০




