সিলেট সিটি করপোরেশনের কাছে বিদ্যুৎ বিভাগের পাওনা আছে ৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ সিলেট-১ ডিভিশন বিভিন্ন খাতে সিসিকের এই বিল পাওনা।

বিউবো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফজলুল করিম জানান, গত বছর ৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে সিসিক। এছাড়াও চলতি বছরের জু্লাই মাসে পরিশোধ করা হয়েছে ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এ টাকার পরও আরো ৯ কোটি টাকা পাওনা আছে সিটি করপোরেশনের কাছে।


ফজলুল করিম বলেন- মূলত স্ট্রিট লাইট, পানির পাম্প আর অফিস বাবদ বিল পাওনা আছে। তবে সবচেয়ে বেশি বিল আসে স্ট্রিট লাইট ও পানির পাম্পের কারণে। বিল আদায়ের ব্যাপারে মেয়র মহোদয়ের সাথে কথা হয়েছে। চিঠিও দেয়া হয়েছে। মেয়র মহোদয় আশ্বাস দিয়েছেন- বাকি টাকাগুলোও দ্রুত পরিশোধ করা হবে।

যদি সময়মত নিদিষ্ট পরিমাণ বিলের টাকা পরিশোধ করা না হয় তবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশনাও আছে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের বৈদ্যুতিক শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুহুল আলম জানান, বিদ্যুৎ বিল দেয়া হচ্ছে না এটা একদম ঠিক নয়। এ বছরও বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

তিনি বলৈন- সিসিকের সবচেয়ে বেশি আসে পানি শাখায়। সিটি করপোরেশনের ৪০টির মতো ডিপ-টিউবওয়েল আর দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট আছে। এর মধ্যে একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালু আছে। এগুলোর শক্তিশালী মোটরের কারণে প্রচুর বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। নগরীর পানির গ্রাহকদের কাছ থেকে যে বিল আসে তা দিয়ে এসরের বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয় না। তাই বিদ্যুত বিল বকেয়া রয়ে যায়। সিসিকের পুরো বিলের ৬৫ শতাংশই আসে পানি শাখা থেকে। এছাড়া স্ট্রিট লাইট আর কিছু প্রতিষ্ঠানিক বিল জমা হয়। প্রতিষ্ঠানিক খাতে বিলের মধ্যে আছে নগরভবন, কবরস্থান, শ্মাসানঘাট আর কয়েকটি হসপাতাল।

রুহুল আলম আরো বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের দাবিকৃত বিলের টাকা নিয়ে আমাদের কিছু আপত্তি আছে। গড় বিল বা অভার-রেইটিং- এসব বিষয়ে আমাদের প্রশ্ন রয়েছে। এসব বিষয়ে আমরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। পিডিবি এগুলো দেখছে।

এ বিষয়ে বিউবো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফজলুল করিম সিলেটভিউ-কে বলেন- বিল সময়মতো না দিতে পারলে লেইট ফি দিতে হয়। এছাড়াও গড় বিল বা অভার-রেইটিং-এর নিয়ম সবার মতো সিসিকের জন্যও সমান। এটা সরকারি নির্দেশনা। সবাইকে মানতে হবে।

সিলেটভিউ২৪ডটকম / নাজাত / ডালিম