খলিলুর রহমান, ঢাকা অফিস:: শেষ হচ্ছে বর্ষাকাল, আসছে শীতকাল। শীত আসলেই ধুলায় ঢেকে যায় ঢাকা শহর। এতে নষ্ট হয় পরিবেশ, নগরবাসী পড়েন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।

কারওয়ান বাজারের বাসিন্দা তুহিন মিয়া সিলেটভিউকে জানান, তাদের এলাকায় প্রতিটি রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। শুধু কারওয়ান বাজার নয়, ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। কারণে শীতকালে ঢাকা শহর ধুলায় ঢেকে যায়।


আব্দুর রহিম নামের এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য সিলেটভিউকে জানান, প্রতি বছর ধুলার মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এতে কি মানুষ বাঁচতে পারে? তিনি বলেন, ‘কী যে কষ্ট করি বলে বোঝানো যাবে না।

রাজধানীর গাবতলী, যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, মহাখালী, পুরান ঢাকা, ধানমন্ডি, উত্তরা এলাকার বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শীতকাল আসলে ধুলার জন্য ঠিকমতো তাকানোও দুষ্কর। আর শ্বাস নেওয়া আরও ভয়ংকর।

গাবতলী এলাকার বাসীন্দারা জানান, শীতকালে পুরো বাসস্ট্যান্ড এর আশপাশের এলাকা ধুলায় সাদা হয়ে যায়। গাছের সবুজ পাতাতেও ধুলার স্তর দেখা যায়। এছাড়া সড়কের পাশে বিক্রি হয় নানা রকম খাবার। মানুষ ধুলাবালিমাখা এই খাবারই খায়ে থাকে।

নগরবাসীর অভিযোগ, উন্নয়নের নামে যা হচ্ছে সবই অপরিকল্পিত। এসব কাজও হচ্ছে ধীরগতিতে। কোনো কাজে আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে না। এতে করে কাজ যেমন এগোচ্ছে না, তেমনি এর প্রভাবে ধুলাও বাড়ে।

জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুদ্দিন বেননুর বলেন, ‘শীতকাল সময়টাতে বাতাসে সাসপেন্ডেড পার্টিকুলেট ম্যাটারের (সূক্ষ্ম কণা) মাত্রা বেড়ে যায়। তখন কাশি, শ্বাসকষ্ট হয়। ইনফেকশনও হয়।

তিনি আরও বলেন, বাতাসে সূক্ষ্ম কণার দুই ধরনের মাত্রা থাকে। যদি সূক্ষ্ম কণার মাত্রা দশমিক হয়ে যায়, তাহলে এটা ফুসফুস পর্যন্ত গিয়ে প্রবেশ করে। আরেকটি মাত্রা যদি ১০ হয়, সেটা শ্বাসনালিতে গিয়ে আক্রমণ করে। এর ফলে অ্যাজমা শ্বাসকষ্টের রোগীদের সমস্যা বেড়ে যায়। কার্বন ডাই-অক্সাইড কার্বন মনোক্সাইড বেড়ে যাওয়ার ফলে ফুসফুসে ক্যানসারও হতে পারে। ছাড়া বাতাসে ভাসতে থাকা সিসা শিশুদের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। এটা বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। গত অক্টোবরে ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বায়ুদূষণজনিত অসুখে বছরে সাড়ে আট হাজার শিশু মারা যায়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাদুল ইসলাম বলেন, শীতকাল আসলে আমাদের গাড়ি পানি নিয়ে রাস্তায় নামে। মূল সড়কগুলোতে পানি ছিটানো শুরু হয়। যদি ধুলা কিছুটা কমে। প্রতিবারের মতো এবারও রাস্তায় পানি দেয়া হবে।

উত্তরের প্রধান বর্জ্যব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর আবদুর রাজ্জাক জানান, ধুলা কমানোর জন্য রাস্তাগুলো নিয়মিত ঝাড়ু দেওয়া হয়।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সোবহান বলেন, ইটভাটায় নিম্নমানের কয়লা ব্যবহার, যানবাহনেও নিম্নমানের জ্বালানি এবং অপরিকল্পিত নির্মাণ সংস্কারকাজের ফলে এসব হচ্ছে। ভালো মানের কয়লা জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে। সরকারের সব বিভাগ যারা রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে, তাদের পরিকল্পনামাফিক কাজ করা দরকার। দেখা যায়, এক রাস্তা বছরে কয়েক বার খোঁড়া হয়। ওয়াসা, রাজউক, সিটি করপোরেশন নিজেদের প্রয়োজনমতো রাস্তা খোঁড়ে। ভোগান্তি হয় সাধারণ মানুষের। এতে গাছপালাসহ পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ কেআরএস