শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠন শাহজালাল ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী সপ্তম বিভাগীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলগুলোর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেছে সংগঠনটি।
রোববার ( ২৮ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন শাবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও এসইউডিএসের মডারেটর অধ্যাপক ড. জায়েদা শারমিন, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সামিউল ইসলাম, এসইউডিএসের সভাপতি মোমতাহিন চৌধুরী প্রমুখ।।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এসইউডিসের সাধারণ সম্পাদক তারেকুল আরেফিন প্রিয়াম।
২৬ আগস্ট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দিনব্যাপী বিভাগীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা শুরু হয়। সিলেট বিভাগের স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি দল এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এর মধ্যে স্কুলের ১০টি দল, কলেজের ১২ টি দল এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ১৬ টি দল অংশগ্রহণ করেন। রোববার সকাল ১১ টায় প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব শুরু হয়। চূড়ান্ত পর্ব শেষে প্রতিযোগিদের পুরস্কৃত করা হয়।
এসময় বিশ্বব্যিালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিতার্কিক হচ্ছে তারা যারা কথার মাধ্যমে অন্যেকে প্রভাবিত করতে পারে। তাদর কথায় থাকে মাধুর্যতা। এসইউডিসের কাজগুলো ভালো লাগে। এ সংগঠনের কাজগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছি।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিতার্কিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আন্তরিকতা এবং চেষ্টা যদি থাকে তাহলে ভালো করা যায়। যারা দূরদুরান্ত থেকে এখানে বিতর্ক করতে এসেছো তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ তাদের ইচ্ছাশক্তি আছে। তারা ভবিষ্যতেও ভালো করবে। বিতার্কিকদের জন্য রইল শুভকামনা।
অনুষ্ঠানে এসইউডিএসের মডারেটর অধ্যাপক ড. জায়েদা শারমিন বলেন, মহামারীর পর এসইউডিএসের এটাই সবচেয়ে বড় ইভেন্ট। অনেকদিন ধরেই পরিকল্পনা ছিল এমন একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা। নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে আয়োজন করা হয়নি। অবশেষে এসইউডিএসের সদস্যরা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে সম্পন্ন করতে পেরেছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি কো-কারিকুলার কর্মকান্ডে থাকলে মনের বিকাশ ঘটে। এছাড়া দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, মানসিকতার উন্নয়ন ঘটে। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় যারা বিজয়ী হয়েছে তাদের জন্য রইল শুভকামনা। আশা করি বিতার্কিকরা বিতর্কের এ ধরা অব্যাহত রাখবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দল 'দুর্বার'। এ দলের বিতার্কিকরা হলেন, রাফিউল হক রাতুল, তাসফিয়া জাহান, অর্নিকা তাহসিন অর্পা।
এই পর্যায়ে রানার্সআপ হয়েছে ওই মেডিকেলের দল 'ডেক্সট্রো'। এ দলের বিতার্কিকরা হলেন ফাহমিদা মাহবুব সামান্তা, আফসানা আক্তার, ফাহিম আবরার অতুল।
কলেজ পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে 'সিলেট ডিবেট ফেডারেশনের টিম-১'। এই দলের বিতার্কিকরা হলেন, সাদিয়া ইসলাম রিমি, মো.মিনহাজ আহমেদ চৌধুরী, মো. কামরুজ্জামান।
এতে রানার্সআপ হয়েছে এমসি কলেজ ডিবেটিং সোসাইটির দল 'অনির্বাণ'। এ দলের বিতার্কিকরা হলেন অনামিকা দৃষ্টি, সালমা অন্তু, তৌসিফ সামি।
এছাড়া স্কুল পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সিলেট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের দল 'রোদ্র'। এই দলের বিতার্কিকরা হলেন মাহথির মানসিব মোবাস্বির, ফাখরুজ্জমান আনসারী, আলী হোসাইন মো. অঙ্কন। এ পর্যায়ে রানার্সআপ দলটি হচ্ছে মৌলভীবাজার ডিবেটিং সোসাইটির দল 'ধ্রুবতারা'। এই দলের বিতার্কিকরা হলেন তূর্ণা দে, চৌধুরী নাহজিবা নুসরাত অথৈ, সুরাইয়া ফেরদৌস।
এছাড়া স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের 'ডিবেটর অব টুর্ণামেন্ট' যারা নির্বাচিত হয়েছে তাদরকেও পুরস্কৃত করা হয়।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/নোমান/ইআ-০৩




