মরণােত্তর চক্ষু ও দেহ দান করেছেন সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার বাসিন্দা ৭২ বছর বয়সী ছায়া রাণী দাশ। তাঁর স্বামী শ্রীকান্ত দাশের এমন জনকল্যাণমূলক কাজ করে গিয়েছিলেন মৃত্যুর আগে। 

ছায়া রানী দাশ ইতােমধ্যে আইনগত হলফনামা তৈরি করেছেন। এতে সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন তার ছেলে দুরন্ত দাশ।


জানা যায়, ছায়া রাণীর স্বামী কমরেড শ্রীকান্ত দাশ কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে তিনিও হলফনামার মাধ্যমে দেহ দান করে যান। ফলে তাঁর মৃত্যুর পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর দেহটি দান করা হয়। কমরেড শ্রীকান্ত দাশই প্রথম মরণােত্তর দেহদান করেন ওসমানী হাসপাতালে। এরপর সিলেটে আর কেউ মরণােত্তর দেহ দান করেননি।

স্বামীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে সম্প্রতি নােটারি পাবলিকের মাধ্যমে কমরেড শ্রীকান্ত দাশের স্ত্রী ছায়া রাণী দাশ মরণােত্তর চক্ষু ও দেহদানের শপথ করে গেছেন।

হলফনামায় তিনি বলেন, ‘প্রকৃতির নিয়মে আমার জীবনাবসানের সময় প্রায় সমাগত। আমার মৃত্যুর পর দুটি চোখ সন্ধানীকে মরণােত্তর দান করতে আগ্রহী। আমি মারা যাওয়ার পর সন্ধানী সিলেট যথানিয়মে আমার চোখ সংগ্রহ করার অধিকারী হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার নশ্বর দেহ যাতে মানবজাতির কল্যাণে ব্যবহৃত হয়ে একটি বিজ্ঞানমনষ্ক আলােকিত সমাজ বিনির্মাণে ন্যূনতম ভূমিকা বা অবদান রাখতে পারে এজন্য আমি সন্তুষ্ট চিত্তে ঘােষণা করছি যে, আমার মৃত্যুর পর আমার মরদেহের মালিক হবেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আমার ইচ্ছানুসারে মৃত্যুর পর সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমার মৃতদেহ সংগ্রহ করে চিকিৎসা শাস্ত্রের শিক্ষা এবং গবেষণার কাজে ব্যবহার করার অধিকারী হবেন।'

হলফনামায় স্বাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন তার ছেলে দুরন্ত দাশ। শনাক্তকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিশিষ্ট আইনজীবী মােহাম্মদ মনির উদ্দিন। হলফনামা নিবন্ধন করেছেন অ্যাডভােকেট সমর বিজয় শী শেখর।

সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম