অবৈধ পানির সংযোগ, বকেয়া পানি বিল আদায়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। বুধবার (৩১ আগস্ট) পরিচালিত বিশেষ এই অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নগদ দেড় লাখ টাকা বকেয়া পানির বিল আদায় করা হয়।

মহানগরীর ১৮, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মতিউর রহমান খান অভিযানে নেতৃত্ব দেন। 


এসময় সিসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আলী আকবর, নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সোবহানসহ সিসিকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

সিসিক জানায়, অভিযানে পানির বকেয়া বিল দেড় লাখ টাকা আদায় করা হয়। এছাড়া ২টি অবৈধ ডিপ টিউবওয়েল শনাক্ত করা হয়। সিটি কর্পোরেশন অনুমোদন ছাড়া টিউবওয়েল স্থাপনা করায় তাদেরকে শর্তসাপেক্ষে বিল ও অনুমোদন ফি জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।

সিসিক আরও জানায়, বকেয়া বিলের কারণে কারো পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে পুনরায় সংযোগ পেতে হলে সমুদয় বকেয়া বিলের টাকাসহ ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।

এমন অভিযান অব্যাহত রাখা হবে বলে জানায় সিসিক। 
 
উল্লেখ্য,  সিলেট মহানগরীর গ্রাহকদের কাছে সিটি করপোরেশনের পানির বিল বকেয়া রয়েছে প্রায় ১৮ কোটি টাকা। বার বার নোটিশ দেয়ার পরও সে বিল পরিশোধ করছেন না আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতের গ্রাহকরা। এছাড়া অবৈধ সংযোগের মাধ্যমেও অনেকে পানি ব্যবহার করছেন। একই সাথে মেইন লাইন থেকে সরাসরি শক্তিশালী মোটরের সাহায্যে পানি ঘরে তোলার অভিযোগও রয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে গত ১৩ আগস্ট দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সর্বাধিক পাঠকপ্রিয় নিউজ পোর্টাল ‘সিলেটভিউ’-এ ‘সিসিকের প্রায় ১৮ কোটি টাকা পানির বিল বকেয়া’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের ১৯ দিনের মাথায় অভিযান শুরু করলো সিটি করপোরেশন। 

সিসিক সূত্র জানিয়েছিলো- পানি বিল আদায়ে গ্রহকদের একাধিকবার নোটিশ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে জব্দ কারা হচ্ছে মোটর। তবে তাতেও কোনো লাভ হচ্ছে না। চলতি বছর মে মাস পর্যন্ত নগরীতে গ্রাহকদের কাছে সিসি করপোরেশনের ১৭ কোটি ৪৬ লাখ ২ হাজার ৭ শ ৫ টাকা বকেয়া বিল বকেয়া রয়েছে। এই বিশাল বিলের টাকা উত্তোলনের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে। বার বার গ্রাহকদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম