শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবির আন্দোলনে স্প্লিন্টারবিদ্ধ সজল কুণ্ডু ক্যাফেটেরিয়ার দায়িত্ব ফিরে পেতে অবস্থান কর্মসূচিতে দাঁড়িয়েছেন।
রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে টানা দুই ঘণ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তিনি। এসময় ‘পেটে লাথি মারা বন্ধ হোক’ এবং ‘সহানুভূতি নয় অধিকার চাই, স্বাভাবিক ভাবে বাঁচতে চাই’ লেখা সংবলিত দুইটি পোস্টার হাতে ছিল তার।
সজলের ভাষ্য, ক্যাফেটিরয়া ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন তিনি।
গত ১৩ জানুয়ারি রাতে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্টের ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে এনে পদত্যাগ দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয় ও হলের সামনে আন্দোলন করেন ওই হলের ছাত্রীরা। দাবি না মানায় এর তিনদিন পর ১৬ জানুয়ারিতে ছাত্রীরা উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করলে পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ বাঁধে।
একপর্যায়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদেরকে লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও শটগানের গুলি নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেন। এসময় আহত সহপাঠী ও জুনিয়রদরকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশের ছোড়া এক ঝাঁক স্প্লিন্টারে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সজল কুণ্ডু। এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ওই ক্যাফেটেরিয়ার দায়িত্ব পেয়েছিলেন সজল। আন্দোলনের পরও এই ক্যাফেটিরয়া কয়েকদিন চালিয়েছেন তিনি। এক পর্যায়ে সেই দায়িত্ব নিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ।
সজল বলেন, আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দাবির মধ্যে সজলকে ক্ষতিপূরণসহ চাকরি দেওয়ার কথা ছিল।
“কিন্তু সাত মাস পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের কোনো দাবি মানা হয়নি। এখন বরং আমার বেঁচে থাকার শেষ সম্বল ক্যাফেটেরিয়া ব্যবসাটা কেড়ে নিচ্ছে। পাঁচ মাস যাবত ক্যাফেটেরিয়াটা বন্ধ। এতে আমার পেটে লাথি মারা হয়েছে। আমার পরিবারের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন ছিল এই ব্যবসাটা। এখন আমি এক অনিশ্চিত জীবনের মধ্যে আছি।’’
‘‘আমাকে গুলি করা হয়েছে। লাঠি মারা হয়েছে। এখন প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাফেটেরিয়াটি বন্ধ করে রাখছে। আমাকে খুলতে দিচ্ছে না। এই সব কিছুর প্রতিবাদে ও আমার ন্যায্য দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।’’-যোগ করেন সজল।
সজল বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি পাবনার ফরিদপুর উপজেলায়। তার বাবার মৃত্যুর পর দুই ভাই-বোনের মধ্যে বোনের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বাড়িতে মা একাই থাকেন। মা গৃহশিক্ষকতা করেন।
সজল বলেন, জীবনধারণের জন্য মায়ের আয় যথেষ্ট না হওয়ায় সজল মাকে সহযোগিতা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় বর্ষ থেকে সজল পড়ালেখার ফাঁকে টিউশনিসহ বিভিন্ন কাজ করেন। মাকেও আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেন। সজল বলেন, এদিকে তার চাচার মৃত্যুর পর চাচাত দুই বোন ও চাচির দায়ও তার কাঁধে পড়েছে। ক্যাফেটেরিয়ার আগে অনলাইনে খাবার বিক্রির ব্যবসা চালু করেন সজল। আন্দোলনের আগে ২ জানুয়ারি ওই ব্যবসা বন্ধ করে ক্যাফেটেরিয়ার দায়িত্ব নেন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/নোমান/মুন্না




