দেশে গ্যাসের সংকট ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। বিশ্ববাজার থেকে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এর দাম বাড়ায় আমদানি কমিয়ে দিয়েছে সরকার। গ্যাসের সংকটে বিদ্যুৎ ও উৎপাদন খাত ধাক্কা খাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। এরই অংশ হিসেবে সিলেট অঞ্চলে ৫৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান শুরু করতে চায় সংস্থাটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেট অঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধানে ত্রিমাত্রিক সিসমিক জরিপ তদারকির জন্য সম্প্রতি এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (দরপত্র) আহ্বান করে বাপেক্স। আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে গত ১২ জুলাই এই এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট আহ্বান করা হয়।


বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৫ জুন সিলেটের জকিগঞ্জে ড্রিল স্টিম স্টেট (ডিএসটি) সৌভাগ্য শিখা জ্বালাতে সক্ষম হয় বাপেক্স। মূলত এর মাধ্যমে গ্যাসপ্রাপ্তির সম্ভাবনার প্রথম জানান দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৯ আগস্ট বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ দেশের ২৮তম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, জকিগঞ্জে এই গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। যেখানে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন কিউবিক ফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে। এ গ্যাসের বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ২৭০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জকিগঞ্জে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হওয়ার পর এ অঞ্চলে আরও গ্যাসের মজুদ থাকার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এতে গ্যাস অনুসন্ধানের পালে লাগে নতুন হাওয়া। এর সাথে যুক্ত হয় দেশে ক্রমাগত গ্যাস-সংকটের বিষয়টিও। বিশেষ করে দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের ৫১ শতাংশ আসে গ্যাসচালিত কেন্দ্র থেকে। ফলে গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

এরই প্রেক্ষিতে সিলেটের জকিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের পাথারিয়ায় গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ত্রিমাত্রিক সিসমিক জরিপকাজ করতে চায় রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান বাপেক্স। এজন্য দরপত্র আহ্বান করে গত মাসের ১৬ তারিখ অবধি দরপত্র জমা নেওয়া হয়। তবে এখনও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়নি। আগামী অক্টোবরের মধ্যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ চূড়ান্ত করে নভেম্বর থেকে জরিপকাজ শুরু করতে চায় বাপেক্স। জরিপকাজ চলবে ২০২৩ সালের মার্চ অবধি।

বাপেক্সের ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত দরপত্রে দেখা গেছে, ত্রিমাত্রিক সিসমিক জরিপকাজের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট আসবে গ্যাস ডেভলপমেন্ট ফান্ড (জিডিএফ) থেকে।

জকিগঞ্জের ২০০ বর্গকিলোমিটার এবং পাথারিয়ার ৩৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ত্রিমাত্রিক জরিপকাজ তদারকি করবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাত ও বিশ্লেষণও করবে তারা।

এ ব্যাপারে সিলেটভিউ থেকে ‘থ্রিডি সাইসমিক সার্ভে ওভার জকিগঞ্জ এন্ড পাথারিয়া ওয়েস্ট স্ট্রাকচার’ শীর্ষক প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মো. লাভলু হাসানের যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

পরে এ প্রতিবেদক বাপেক্সের উৎপাদন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. ফজলুল হকের সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি বিষয়টির জন্য বাপেক্সের ভূ-পদার্থিক বিভাগে কথা বলার পরামর্শ দেন।

বাপেক্সের ভূ-পদার্থিক বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মেহেরুল হাসানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে সিলেটভিউ। তিনি মূলত বাপেক্সের ভূ-পদার্থিক বিভাগের থ্রিডি সাইসমিক ডাটা অ্যাকুইজিশন উপ-বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক। একাধিক দিনে একাধিকবার কল করেও তাঁর সাড়া মেলেনি।

তবে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘গ্যাস সংকট নিরসনে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের জোগান বাড়াতে চাই আমরা। এ লক্ষ্যে জকিগঞ্জ ও পাথারিয়ায় ত্রিমাত্রিক জরিপের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যাবে কী পরিমাণ গ্যাস মজুত আছে। তবে সিলেট অঞ্চলে গ্যাস প্রাপ্তির ভালো সম্ভাবনা দেখছি আমরা।’

সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে