সিলেটের সঞ্জয় পাশী জয়। ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রিতম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি গেল একবছরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৩ বার পদ পেয়েছেন। সদস্য পদ থেকে উপসম্পাদকীয় পদে স্থান করে নিয়েছেন তিনি। একই দিনে দুই পদ বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি! এ নিয়ে সংগঠনের দীর্ঘ দিনের কর্মীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। 

 


তারা বলেন- ১ বছরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটিতে কিভাবে এক নেতা স্থান পায়। সেটা আমাদের জানা নেই। তবে এসব চিঠির ভিত্তি নেই। তবে সঞ্জয় পাশী বলেন- ‘৩ বার নয়। আমাকে প্রথমে সদস্য করা হয়। তারপর নতুন তালিকাভূক্তিতে ভুলবশত ‘সহসম্পাদক’ পদ দেয়া হয়। কিন্তু মূলত আমাকে উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক মনোনীত করা হয়।’

 

জানা যায়- সিলেটের কুলাউড়ার সন্তান সঞ্জয় পাশী জয় ছাত্র জীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। তিনি কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজে অধ্যয়নকালে ২০১২ সালে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি ছাত্রলীগের ‘সভাপতি’ মনোনীত হন! এরপর তিনি সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ১২ অক্টোবর সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ। অনুমোদিত এ কমিটিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য পদে সঞ্জয় পাশীকে মনোনীত করা হয়। এরপর চলতি বছরের ৩১ জুলাই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি বর্ধিত করা হয় ; এমন চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার হলেও তীব্র সমালোচনার মুখে পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এরপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে জানানো হয় সেসময় কাউকে পদ-পদবী দেয়া হয়নি। এমনকি এমন পদপদবী দাবিকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি প্রদান করা হয় এবং একজনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এমন পরিস্থিতি সঞ্জয় পাশী জয় ১ আগস্ট ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজেকে জানান দেন তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ‘সহসম্পাদক’। এসময় তাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে তাকে স্থান দেওয়ায় কর্মী সমর্থকরা শুভেচ্ছা জানান। সর্বশেষ ৫ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে নিজেকে ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক’ হিসেবে আরেকটি পোস্ট করেন তিনি। তিনি যে চিঠি পোস্ট করেছেন সেটিতে ৩১ জুলাই ২০২২ লিখা রয়েছে। ফলে একই দিনে দুই পদ তিনি কিভাবে পেলেন সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজপথে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে রাতদিন পরিশ্রম করেও পদ না পাওয়ায় নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন- একবছরে এক ব্যক্তি কেন্দ্রীয় কমিটিতে কিভাবে স্থান পায়? আদতে এসব চিঠির ভিত্তি কি? আর সত্য হলে কিভাবে সম্ভব সেই প্রশ্ন রেখেছেন।

এ বিষয়ে সঞ্জয় পাশী জয় বলেন- ‘আমাকে প্রথম ছাত্রলীগের সদস্য মনোনীত করা হয়। এরপর গত ৩১ জুলাই উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক পদে মূল্যায়ন করা হয়। কিন্তু ভুলবশত আমাকে সহসম্পাদক করা হয়েছে এমন চিঠি আমি পাই। পরবর্তীতে ফেসবুকে সেটা কর্মী-সমর্থকেরা প্রকাশ করেন। তবে আমি দপ্তর সেলে যোগাযোগ করে সেটি সংশোধন করি। বর্তমানে আমি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে আছি।’

 

একপ্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- ‘যখন আমি বিষয়টি সংশোধন করি তখন আগস্ট মাস থাকায় সেটি প্রকাশ করতে পারি নি। পরবর্তীতে আমার নেতার (কেন্দ্রীয় আ.লীগের শীর্ষ এক নেতা) পরামর্শে আমি গতকাল প্রকাশ করেছি। ইতোমধ্যে দাদার (কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, লেখক ভট্টাচার্য)-এর সঙ্গে দেখা করেছি।’

 

কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়ার আগে ছাত্রলীগের কোনো কমিটিতে ছিলেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সঞ্জয় বলেন- ‘আমি কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজের (একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি) নির্বাচিত সভাপতি।’

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/মুন্না