মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ভূনবীর ইউনিয়নের শাসন গ্রামে বালু ভর্তি ট্রাকের ধাক্কায় পা ভেঙে গেছে এক স্কুল শিক্ষার্থীর। এর প্রতিবাদে সহপাঠীরা সড়ক অবরোধ করেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়। 

আহত রুমকি আক্তার (৭) উপজেলার শাসন বটতল এলাকার ইসমাইল লস্করের মেয়ে। 


বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ভূনবীর ইউনিয়নের শাসন এলাকায় এ দূর্ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ভুনবীর ইউনিয়নের শাসন সরকারি প্রাইমারি স্কুলের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী রুমকি আক্তার (৭) সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় বালু ভর্তি একটি ডায়না ট্রাক রুমকিকে ধাক্কা দিলে পড়ে গিয়ে তার পা ভেঙ্গে যায়। পরে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে ট্রাকের ড্রাইভার ট্রাক ফেলে পালিয়ে যায়। রুমকি আক্তারকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তবরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখান থেকে মেয়েটিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

শাসন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পিনাকী রঞ্জন দেব বলেন, বালু ভর্তি ট্রাকটি স্থানীয় কবির মোল্লা অবৈধভাবে বালু বহন করে থাকেন। এতে এলাকার শিক্ষার্থীরা চলাচলে দূর্ভোগ পড়তে হচ্ছে। প্রশাসন অনেকবার এসব বালু জব্দ করেও থাকে।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা.মৌমিতা বলেন, রুমকি আক্তারের একটি পা খুব জটিলভাবে ভেঙে গেছে। আমরা মেয়েটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মেয়েটিকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছি।

জানতে চাইলে বালু ব্যবসায়ী কবির মোল্লা বলেন, হঠাৎ দৌড় দেওয়ার কারনে বালুর গাড়ীর ধাক্কায় মেয়েটি সামান্য আঘাত পায়। আমরা মেয়েটিকে চিকিৎসা করাতে যা যা লাগে সবকিছু করব। ভূনবীর ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ বিষয়টিকে বড় করার জন্য টিএনও,এসি ল্যান্ড স্যারকে এনেছেন মামলা দেওয়ার জন্য।

পরে শাসন প্রাইমারি স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা উপজেলার মির্জাপুর সড়কটি ব্যারিকেড দিয়ে রাখেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের হবে বলেও তিনি জানান। মেয়েটির সুচিকিৎসার সব ব্যয়ভার উপজেলা প্রশাসন বহন করবে। তিনি এলাকাবাসী ও স্হানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে তথ্যদিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীরা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা এলাকার কৃষি জমি থেকে মেশিন দিয়ে দীর্ঘ বছর থেকে বালু উত্তোলন করে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করছে। তাদের উৎপাতে রাস্তাঘাট ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২/১টা অভিযান পরিচালনা করা হলেও তারা আবার সিন্ডিকেট করে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে।

সিলেটভিউ২৪ডটকম / সাইফুল / ডি.আর